২০০৯ সালের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যের সরকার ব্যাংকারদের বোনাসে কর আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর, চ্যান্সেলর আলিস্টার ড্যারিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ব্যাংক জে.পি. মরগ্যানের সিইও জেমি ডিমনের মধ্যে এক তীব্র টেলিফোন আলাপের বিবরণ এপস্টেইন ফাইলের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ড্যারিং, গর্ডন ব্রাউন সরকারের অধীনে চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, আর ডিমন জে.পি. মরগ্যানের শীর্ষে ছিলেন, যা তখনই যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা ছিল। বোনাস করের প্রস্তাবের পর ডিমন ব্যাংকের ঋণধারী অবস্থানকে লিভারেজ হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের আর্থিক নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন।
ফাইলগুলোতে দেখা যায়, তখন ব্যবসা মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসন ড্যারিংকে ডিমনের কাছে “মৃদু হুমকি” জানাতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। একই ফাইলগুলোতে জেফ্রি এপস্টেইনের নামও উল্লেখ আছে, যা এই আলোচনার পটভূমিতে অপ্রত্যাশিত সংযোগ নির্দেশ করে।
ড্যারিং পরবর্তীতে জানিয়েছেন, ডিমন তার ব্যাংক কত বড় পরিমাণে যুক্তরাজ্যের সরকারী ঋণ কিনেছে তা উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, এবং এই ঋণ ক্রয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ড্যারিং ব্যাখ্যা করেন, জে.পি. মরগ্যানের ঋণ ক্রয় মূলত লাভজনক ব্যবসা ছিল, তাই করের পরিবর্তন তাদেরকে ঋণদাতা হিসেবে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করবে না।
বোনাস করের বিরোধে যুক্তরাজ্যের ব্যাংকারদের কাছ থেকে ধারাবাহিক ফোন কল আসতে থাকে। ড্যারিং জানান, কলগুলোতে এক রকম স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করা হয়, ফলে তিনি প্রায়ই তাদের কথার আগেই প্রত্যাশা করে উত্তর দিতেন। এই পুনরাবৃত্তি কলের ফলে ড্যারিংকে ব্যাংকারদের দাবিগুলো পূর্বানুমান করা সহজ হয়ে যায়।
সেই সময়ে মিডিয়ায় কিছু অংশ প্রকাশ পেয়েছিল, যেমন জে.পি. মরগ্যানের যুক্তরাজ্যে নতুন সদর দফতর গড়ার পরিকল্পনা বাতিলের হুমকি। তবে এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশে দেখা যায়, ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের অন্তর্ভুক্তি এই হুমকির পেছনের কৌশলগত দিককে স্পষ্ট করেছে।
ড্যারিং ২০১১ সালে তার বই “ব্যাক ফ্রম দ্য ব্রিঙ্ক: ১০০০ দিনস এট নাম্বার ১১” রচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একাধিক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার দেন। সেই সাক্ষাৎকারগুলোতে তিনি ডিমনের সঙ্গে হওয়া আলাপের অতিরিক্ত বিবরণ শেয়ার করেন, যা পূর্বে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বইয়ের অংশে ড্যারিং লিখেছেন, ডিমন খুবই রাগান্বিত ছিলেন এবং জে.পি. মরগ্যানের ঋণ ক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন যে এখন তা এখনও যুক্তিযুক্ত কিনা। ড্যারিং জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংক ঋণ কিনেছে কারণ তা তাদের জন্য লাভজনক ব্যবসা, এবং করের পরিবর্তন তাদেরকে ঋণদাতা হিসেবে থামাবে না।
ডিমনের রাগের প্রকাশে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জে.পি. মরগ্যানের যুক্তরাজ্যের ঋণধারী অবস্থার কারণে তারা এখন আর্থিক নীতির পরিবর্তনকে সমর্থন করবে না। ড্যারিং এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বোনাস করের বাস্তবায়নকে অগ্রসর রাখেন।
এই ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, যুক্তরাজ্যের সরকার ও আমেরিকান ব্যাংকের মধ্যে আর্থিক নীতি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ ছিল, এবং উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছিল।
এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের ফলে ড্যারিং ও ডিমনের কথোপকথনের পেছনের অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রেক্ষাপট উন্মোচিত হয়েছে, যা পূর্বে কেবল আংশিকভাবে জানা ছিল। ভবিষ্যতে এই তথ্যগুলো যুক্তরাজ্যের আর্থিক নীতি ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সম্পর্কের বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।



