লুক বেসনের নতুন চলচ্চিত্র ‘ড্রাকুলা: এ লাভ টেল’ শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে প্রদর্শনী শুরু করেছে। ব্র্যাম স্টোকারের ১৮৯৭ সালের ক্লাসিক উপন্যাসের এই রূপান্তরটি রক্তের চেয়ে প্রেমের ওপর বেশি জোর দেয়। ক্যালেব ল্যান্ড্রি জোন্স, ক্রিস্টোফ ওয়াল্টজ, জোই ব্লু, গুইলোম দে টঁকেডেক, মাটিল্ডা দে অ্যাঞ্জেলিস এবং রাফেল লুস সহ বহু অভিনেতা প্রধান ভূমিকায় উপস্থিত। ছবির রেটিং R, দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ৯ মিনিট এবং এটি ফরাসি নির্মাতা লুক বেসনের সর্বশেষ প্রচেষ্টা।
লুক বেসন ১৯৯০-এর দশকে ‘লা ফেম নিকিটা’ ও ‘লিয়ন: দ্য প্রফেশনাল’ মতো শৈল্পিক অ্যাকশন চলচ্চিত্র দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘টেকেন’ ও ‘ট্রান্সপোর্টার’ সিরিজের লেখক ও প্রযোজক হিসেবে বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেন। এখন তিনি আবার রোমান্সের পথে ফিরে এসে ভ্যাম্পায়ার কিংবদন্তিকে আধুনিক রোমান্টিক রূপে উপস্থাপন করছেন।
‘ড্রাকুলা: এ লাভ টেল’ ছবির মূল বৈশিষ্ট্য হল রক্তের চেয়ে প্রেমের দৃশ্যের প্রাধান্য। যদিও ড্রাকুলার ঐতিহ্যবাহী ভয়াবহতা কিছুটা উপস্থিত, তবে গোরের পরিমাণ সীমিত এবং তা প্রধানত দৃশ্যের সজ্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি শতাব্দী জুড়ে বিস্তৃত একটি প্রেমের গল্প বলে, যেখানে কন্ট ড্রাকুলা ও তার প্রিয়ের সম্পর্ক সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়।
চিত্রনাট্যটি রোমান্সকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যেখানে রক্তপাতের দৃশ্যগুলোকে রঙিন ও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবির সাউন্ডট্র্যাক ও ভিজ্যুয়াল স্টাইল ফরাসি কিটশের স্বাদ বহন করে, যা দর্শকের মধ্যে হালকা-ফুলকা মেজাজ তৈরি করে। যদিও কিছু দৃশ্যে গর্ভবতী রক্তের ছাপ দেখা যায়, তবে তা মূলত নাটকের আবেগ বাড়াতে ব্যবহৃত হয়েছে।
কাস্টের পারফরম্যান্সে ক্যালেব ল্যান্ড্রি জোন্স ড্রাকুলার গম্ভীরতা ও রোমান্সের মিশ্রণকে জীবন্ত করে তোলেন। ক্রিস্টোফ ওয়াল্টজের উপস্থিতি ছবিতে অভিজ্ঞতার ছাপ যোগায়, আর জোই ব্লু ও গুইলোম দে টঁকেডেকের পারস্পরিক ক্রিয়া রোমান্টিক মুহূর্তকে উজ্জ্বল করে। মাটিল্ডা দে অ্যাঞ্জেলিস এবং রাফেল লুসের সহায়ক ভূমিকা গল্পের গভীরতা বাড়ায়।
চিত্রের বর্ণনা অনুসারে, ড্রাকুলা এবং তার প্রেমিকের সম্পর্ক শতাব্দী জুড়ে বিভিন্ন সময়ে পুনরাবৃত্তি হয়, যেখানে প্রতিটি যুগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রঙ ছবিতে প্রতিফলিত হয়েছে। রক্তের ব্যবহার সীমিত হলেও, রোমান্সের তীব্রতা ও আবেগের প্রকাশে তা যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। চলচ্চিত্রের গতি মাঝারি, যা দর্শকের মনোযোগকে দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখে।
সমালোচকরা ছবির কিটশি শৈলীকে প্রশংসা করেছেন, তবে একই সঙ্গে এটিকে অতিরিক্ত রোমান্টিক ও কম ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গোরের দৃশ্যগুলো সীমিত থাকলেও, সেগুলো কখনো কখনো অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, ‘ড্রাকুলা: এ লাভ টেল’ একটি বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যদিও তার অতিরঞ্জিত রোমান্সের কারণে কিছু দর্শকের কাছে তা অযৌক্তিক লাগতে পারে।
বেসনের এই নতুন প্রচেষ্টা তার পূর্বের অ্যাকশন-ভিত্তিক কাজের থেকে ভিন্ন, তবে তার রোমান্টিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ছবিটি ফরাসি সিনেমার ঐতিহ্যবাহী চিজি স্টাইলকে আধুনিক ভ্যাম্পায়ার গল্পের সঙ্গে মিশ্রিত করেছে, যা দর্শকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র স্বাদ তৈরি করে। যদিও গোরের পরিমাণ কম, তবে রোমান্সের তীব্রতা ছবিটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
‘ড্রাকুলা: এ লাভ টেল’ বর্তমানে দেশের প্রধান থিয়েটারগুলোতে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং শীঘ্রই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ভ্যাম্পায়ার প্রেমের গল্পে নতুন দৃষ্টিকোণ খুঁজছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। তবে রোমান্সের অতিরিক্ত ব্যবহার ও সীমিত গোরের উপস্থিতি বিবেচনা করে, দর্শকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলচ্চিত্রটি উপভোগ করা উচিত।



