চিলির প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালক ডিয়েগো সেপেডেসের ‘দ্য মিস্টেরিয়াস গেজ অব দ্য ফ্ল্যামিঙ্গো’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে Un Certain Regard শাখার শীর্ষ পুরস্কার অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি চলচ্চিত্রের অনন্য বর্ণনা ও শৈলীর স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে ১৯৮০‑এর দশকের এডস মহামারীকে পুনরায় উপস্থাপনকারী দুইটি জেনার‑বাঁধা চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রথমটি জুলিয়া ডুকুর্নোরের ‘আলফা’, যা শারীরিক ভয়াবহতা ও শারীরিক রূপান্তরের মাধ্যমে রোগের চিত্র তুলে ধরেছে।
সেপেডেসের কাজটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও একই থিমকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে অনুসন্ধান করেছে। ‘দ্য মিস্টেরিয়াস গেজ অব দ্য ফ্ল্যামিঙ্গো’ (La misteriosa mirada del flamenco) একটি রূপকথার মতো বর্ণনা, যেখানে এডসকে এমন এক রোগ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা রোগীর চোখে গভীরভাবে তাকিয়ে সংক্রমিত হয়।
চিত্রনাট্যটি মরুভূমির এক দূরবর্তী খনি শহরে স্থাপিত, যেখানে রোগের বিস্তার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কিশোরী লিডিয়া (তামারা কোর্টেস), যিনি তার ট্রান্স মা, ফ্ল্যামিঙ্গো (মাতিয়াস ক্যাটালান) এর সঙ্গে একটি পুরনো বোরডেলোরে বসবাস করেন।
বোরডেলোর মালিক মামা বোয়া (পাউলা ডিনামার্কা), কঠোর কিন্তু স্নেহশীল মাদাম, যিনি প্রয়োজনে কঠোর শাস্তি দিতে দ্বিধা করেন না। এই পরিবেশে লিডিয়া এবং তার মা বিভিন্ন লিঙ্গ ও পরিচয়ের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থান করে, যা চলচ্চিত্রের সামাজিক স্তরকে সমৃদ্ধ করে।
চলচ্চিত্রের অন্যান্য প্রধান চরিত্রের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সিসকো দিয়াজ এবং পেড্রো মুনোজ, যারা গল্পের গতি ও সংঘাতকে তীব্র করে তোলেন। মোট রানটাইম ১ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট, এবং রেটিং এখনও নির্ধারিত হয়নি।
প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরবর্তী পর্যায়ে প্রদর্শনের সূচি নির্দেশ করে। এই তারিখে চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন থিয়েটারে মুক্তি পাবে।
চিত্রের শৈলীর দিক থেকে এটি একটি সুররিয়াল ট্রান্স ওয়েস্টার্ন হিসেবে বিবেচিত, যেখানে এডসের ভয়াবহতা ও মানবিক সংবেদনশীলতা একসাথে মিশে যায়। চলচ্চিত্রটি কিশোরী বয়সের আত্ম-অন্বেষণকে এডসের সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করে, যা দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে।
শেষের দিকে গল্পটি নাটকীয় মোড় নেয়; লিডিয়া এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়, যা তার এবং তার পরিবারের ভবিষ্যৎকে নির্ধারণ করে। পূর্বের হালকা-ফুলকা দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে গম্ভীর ও তীব্র হয়ে ওঠে, যা চলচ্চিত্রের থিমকে আরও গভীর করে।
‘দ্য মিস্টেরিয়াস গেজ অব দ্য ফ্ল্যামিঙ্গো’ এর সাফল্য চিলির চলচ্চিত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়িয়ে তুলেছে। ডিয়েগো সেপেডেসের প্রথম চলচ্চিত্রের এই অর্জন দেশীয় ও বিদেশি উভয় দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা অর্জন করেছে।
চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, এডসের ইতিহাসকে রূপকভাবে উপস্থাপন করে সমসাময়িক সামাজিক বিষয়গুলোকে আলোতে আনা তাদের মূল লক্ষ্য। এই দৃষ্টিকোণ থেকে চলচ্চিত্রটি শুধুমাত্র একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা বহনকারী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
সামগ্রিকভাবে, ‘দ্য মিস্টেরিয়াস গেজ অব দ্য ফ্ল্যামিঙ্গো’ একটি সংবেদনশীল ও সৃজনশীল কাজ, যা ঐতিহাসিক রোগকে নতুন দৃষ্টিতে উপস্থাপন করে এবং একই সঙ্গে লিঙ্গ পরিচয় ও মানবিক সম্পর্কের জটিলতা অন্বেষণ করে। চলচ্চিত্রটি দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্মরণীয় থাকবে।



