ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার মার্কিন সরকার ও ভারতের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করার ঘোষণা দেন। তিনি যুক্তি দেন যে নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ান তেল ক্রয় বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা ইউক্রেনের যুদ্ধ সমাপ্তিতে সহায়ক হবে। এই ঘোষণাটি ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
চুক্তির মূল শর্ত হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। পূর্বে মার্কিন সরকার ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক এবং রাশিয়ান তেল ক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। নতুন হারটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে সহজতর করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
আগের শুল্ক কাঠামোতে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশের বেশি বোঝা ছিল, যার মধ্যে রাশিয়ান তেল ক্রয়ের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক অন্তর্ভুক্ত। এই অতিরিক্ত শুল্ক আগস্ট মাসে আরোপিত হয়েছিল, যখন ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি চালিয়ে যাচ্ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে এই অতিরিক্ত শুল্কও বাতিল করা হবে।
নরেন্দ্র মোদি সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে চুক্তির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শুল্ক হ্রাসের প্রশংসা করে ‘দারুণ’ কথায় উল্লেখ করেন, তবে রাশিয়ান তেল ক্রয় বন্ধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এই কথোপকথনটি দুই নেতার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
ইউক্রেনের যুদ্ধের অর্থায়নে রাশিয়ান তেল বিক্রয়কে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন থেকে সমালোচনা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে রাশিয়ান তেল ক্রয় চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধের তহবিল সরবরাহ করে। তাই ভারতীয় তেল আমদানি নীতি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বন্ধুত্ব ও নরেন্দ্র মোদির অনুরোধের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ চুক্তি কার্যকর করার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ফল। ট্রাম্পের বক্তব্যে বাণিজ্যিক সুবিধা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ সমাপ্তি উভয়ই লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এএফপি-কে জানান যে রাশিয়ান তেল ক্রয়ের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও এখন থেকে বাতিল হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা শুল্কের বোঝা কমে যাবে বলে আশা করা যায়। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই পদক্ষেপটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ত্বরান্বিত করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ান তেল ক্রয় বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভবত ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বাড়াতে সম্মত হয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন যে এই পরিবর্তন ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাপ্তিতে সরাসরি অবদান রাখবে। তদুপরি, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বর্তমানে মার্কিন সরকার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
মার্কিন সরকার জানিয়েছে যে জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অপারেশনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থকে শক্তিশালী করে।
নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার হোয়াইট হাউস পরিদর্শন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর, তবে বাণিজ্যিক আলোচনায় বহু বাধা দেখা দিয়েছে। গত বছর গ্লোবাল



