বরিশাল বিভাগে মোট ২,৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ ৭৬৫টি, নদী‑নালার দ্বারা বিচ্ছিন্ন কঠিন‑প্রবেশযোগ্য এলাকায় অবস্থিত, যা নির্বাচন সামগ্রী পরিবহনে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে হোম অ্যাফেয়ার্স উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর উপস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে একটি বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরের মোট তেরটি উপজেলা থেকে এই দূরবর্তী কেন্দ্রগুলো ছড়িয়ে আছে; বরিশালে তিনটি, ভোলায় দুইটি, পটুয়াখালিতে চারটি, বরগুনায় তিনটি এবং পিরোজপুরে একটি ভোটকেন্দ্র এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশই নদী‑নালার পারাপার ছাড়া কোনো সড়ক সংযোগ নেই, ফলে ভোটের দিন পর্যন্ত নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছাতে বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিভাগীয় কমিশনারের লিখিত উপস্থাপনা অনুযায়ী, এই ৭৬৫টি দূরবর্তী কেন্দ্রের জন্য একটি হেলিকপ্টার, ষোলোটি স্পিডবোট এবং চারটি অ্যাম্বুলেন্সের অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভোটের উপকরণ দ্রুত সরবরাহ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। এছাড়া, নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য আধুনিক সরঞ্জাম ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের দিক থেকে দেখা যায়, মোট ৩৪টি ভোটকেন্দ্রেই বিদ্যুৎ নেই; এদের মধ্যে ৩২টি ভোলা জেলায় এবং দুইটি বরিশাল জেলায় অবস্থিত। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় ১১টি কেন্দ্রে সৌরশক্তি ভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, তবে বাকি কেন্দ্রগুলোতে এখনও বিকল্প শক্তি সরবরাহের প্রয়োজন রয়ে গেছে।
মোট ২,৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১,৩৯০টি সাধারণ, ৮২৭টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৬২১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রায় ৫৭,৮৬৪ জন ভোটকর্তা ও সহায়ক কর্মীকে দায়িত্বে রাখা হবে, যা বৃহৎ পরিসরের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা দাবি করে।
মেহেন্দিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ রিয়াজুর রহমান জানান, তার উপজেলা মোট ১০০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৫টি যোগাযোগহীন এলাকায় অবস্থিত, ফলে ভোটারদের কাছে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছাতে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন যদিও লাক্ষ্মীপুর জেলায় অন্তর্ভুক্ত, তবে এখানে ৮৩,০০০ ভোটারদের অধিকাংশই বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন, যা ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
গোবিন্দপুরের মত বিচ্ছিন্ন এলাকায় ভোটারদের সেবা নিশ্চিত করতে স্পিডবোট ও ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে নদী পারাপার সহজ হয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। এই ব্যবস্থা ভোটের দিন সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী নিরাপত্তা বজায় রাখতেও সহায়ক হবে।
বরিশাল‑৪ সংসদীয় এলাকার হিজলা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ ইলিয়াস সিকদারও উল্লেখ করেন, তার তত্ত্বাবধানে থাকা ভোটকেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে সময়মত ভোটপত্র, ভোটার তালিকা ও ভোটের বাক্স পৌঁছাতে সকল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মানবশক্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকের শেষে, বিভাগীয় কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে হেলিকপ্টার, স্পিডবোট এবং জরুরি সেবা সরঞ্জামের দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ করেন, যাতে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরণের লজিস্টিক ব্যাঘাত না ঘটে। তারা আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ সমর্থন পেলে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং নির্বাচনী ফলাফল নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারিত হবে।



