দ্বিতীয় ফেব্রুয়ারি সোমবার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গৃহে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান “বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি” শীর্ষক নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক দায়িত্বের আলোকে সমাজ ও রাজনীতির বাস্তবতা সরল ভাষায় উপস্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষও বিষয়টি সহজে বুঝতে পারে।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির, যিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং সেতু ও রেলপথ বিষয়ক পরামর্শদাতা, এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে বইয়ের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, লেখক সমাজের জটিল সমস্যাগুলোকে হৃদয়গ্রাহী শব্দভাণ্ডার ব্যবহার করে সহজভাবে প্রকাশ করেছেন, যা পাঠকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন গ্রন্থটি জনমত গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়েদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলমও বক্তব্য রাখেন। সকল অতিথি ফাওজুল কবিরের এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, সমাজের অসঙ্গতিগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
অতিথিরা উল্লেখ করেন, লেখকের পাণ্ডিত্য এবং সংবেদনশীলতা বইটিকে অনন্য করে তুলেছে। তারা বলেন, জটিল বিষয়গুলোকে সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা শব্দচয়ন ও বর্ণনা পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং বিষয়ের গভীরতা বজায় রাখে। এধরনের প্রকাশনা সমাজে সচেতনতা বাড়াতে এবং রাজনৈতিক আলোচনাকে গঠনমূলক দিকের দিকে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানের সময় কিছু বিশ্লেষকও উপস্থিত ছিলেন, যারা দোষারোপের সংস্কৃতি ত্যাগের আহ্বানকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তারা উল্লেখ করেন, যদিও দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা জরুরি, তবে অতিরিক্ত দোষারোপ সমাজের সংহতি ক্ষুণ্ন করতে পারে। ফাওজুল কবিরের এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা সমালোচনা ও সংবেদনশীলতার মধ্যে সমতা রক্ষা করে, তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপের টোনকে পরিবর্তন করতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, বইটি প্রকাশের পর থেকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষত, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা বইয়ের বিষয়বস্তুকে নীতি নির্ধারণে প্রয়োগযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন। এদিকে, সামাজিক মিডিয়ায়ও গ্রন্থের মূল থিম—দোষারোপের পরিবর্তে সংবেদনশীলতা—বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা জনমত গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
ফাওজুল কবিরের এই আহ্বান, যদি রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে দায়িত্বশীলতা ও সংলাপের নতুন মডেল গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, সরকারী নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মতামতকে সংবেদনশীলভাবে বিবেচনা করা হলে, নীতি বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বাড়তে পারে।
সমগ্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের সম্মিলিত মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, দোষারোপের সংস্কৃতি ত্যাগ করে সংবেদনশীলতা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সমাজ গঠন করা এখন সময়ের দাবি। ফাওজুল কবিরের এই বার্তা, তার নতুন গ্রন্থের মাধ্যমে, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার দিক পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে।
বই উন্মোচন অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, উপস্থিতরা গ্রন্থের কপি সংগ্রহ করে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশনা আরও বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা দেন। এভাবে, দোষারোপের পরিবর্তে সংবেদনশীলতা—একটি নতুন সামাজিক মানদণ্ড—গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।



