19 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসোলং ক্যাপ্টেন গরু অবহেলাজনিত হত্যার দোষী রায়ে দণ্ডিত

সোলং ক্যাপ্টেন গরু অবহেলাজনিত হত্যার দোষী রায়ে দণ্ডিত

লন্ডনের ওল্ড বেইলিতে বৃহস্পতিবার জুরি ৫৯ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন ভ্লাদিমির মটিনকে গরু অবহেলাজনিত হত্যার দোষী রায় দেয়। মটিনের দায়িত্বে থাকা কার্গো জাহাজ সোলং ১০ মার্চ ২০২৫ তারিখে উত্তর সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাঙ্কার স্টেনা ইম্যাকুলেটের সঙ্গে ধাক্কা খায়, ফলে সোলং-এর ক্রু সদস্য মার্ক অ্যাঞ্জেলো পার্নিয়া (৩৮) নিখোঁজ হয়ে মৃত্যুর সন্দেহে পড়ে।

সোলংের একমাত্র ওয়াচ অফিসার মটিন, রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসিন্দা, ইস্ট ইয়র্কশায়ার উপকূলে সংঘটিত এই দুর্ঘটনার সময় জাহাজের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। ট্যাঙ্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং গ্রিক থেকে যুক্তরাজ্য পর্যন্ত ২২০,০০০ ব্যারেল এভিয়েশন ফুয়েল বহন করছিল।

দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে সোলংের ১৪ জন ক্রু সদস্যের মধ্যে পার্নিয়া ছিলেন, যিনি ধাক্কা খাওয়ার পর থেকে কোনো যোগাযোগ রাখতে পারেননি। পার্নিয়ার স্ত্রী ফিলিপাইনে দূরবর্তী গ্রামে বাস করছিলেন এবং ঘটনাকালে গর্ভধারণের সপ্তম মাসে ছিলেন।

প্রসিকিউশন দল জুরি সমক্ষে উল্লেখ করে জানায় যে পার্নিয়ার পরিবারকে যথাযথ ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান না করা হলে শাস্তি প্রদান প্রক্রিয়া সরাসরি অনুসরণ করা কঠিন হবে। আদালতে এই বিষয়টি তুলে ধরে পার্নিয়ার স্ত্রীর অবস্থান ও গর্ভধারণের তথ্য শোনানো হয়।

প্রসিকিউশন আরও দাবি করে যে মটিন যথাযথ দৃষ্টিপাত না করা, সংঘর্ষের ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য সব উপলব্ধ উপায় ব্যবহার না করা এবং এড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার মাধ্যমে মৌলিক নাবিকীয় দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছেন।

ট্যাঙ্কারটি সোলংয়ের রাডার স্ক্রিনে ৩৬ মিনিট ধরে দৃশ্যমান ছিল, তবু মটিন জাহাজকে সংঘর্ষের পথে থেকে সরিয়ে না নেওয়া, সতর্কতা সিগন্যাল না দেওয়া, সাহায্য আহ্বান না করা এবং জরুরি থামার ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য সমালোচিত হন।

আদালতে সংঘর্ষের মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজও উপস্থাপন করা হয়, যা দু’টি জাহাজের ধাক্কা খাওয়ার দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখায়। এই প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি আট ঘন্টার বেশি সময় deliberation করে একমত হয়ে দোষী রায় দেয়।

মটিন রায় শোনার সময় কোনো আবেগ প্রকাশ না করে শান্তভাবে বসে ছিলেন এবং রায়ের পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত মটিনের শাস্তি নির্ধারণের জন্য বৃহস্পতিবারের সেশন নির্ধারণ করেছে। গরু অবহেলাজনিত হত্যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, তবে চূড়ান্ত শাস্তি বিচারকের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

এই মামলাটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নাবিকীয় দায়িত্বের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে, বিশেষ করে যখন দু’টি জাহাজে দাহ্য পণ্য বহন করা হয়। উভয় জাহাজের কার্গোতে উচ্চ দাহ্যতা রয়েছে, যা কোনো সংঘর্ষের ক্ষেত্রে বিশাল বিপদ তৈরি করতে পারে।

বিচারক আদালতে উল্লেখ করেন যে, উভয় জাহাজের ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব ছিল ঝুঁকি মূল্যায়ন করে যথাযথ প্রতিক্রিয়া নেওয়া, যা এখানে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

মটিনের দোষী রায়ের পরবর্তী ধাপ হবে শাস্তি নির্ধারণের শুনানি, যেখানে তার পূর্বের রেকর্ড, দুর্ঘটনার পরিণতি এবং পার্নিয়ার পরিবারের অবস্থা বিবেচনা করা হবে।

এই রায় নাবিকীয় প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা রোধ করা যায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments