বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান আজ বিকেলে মোহাখালী ডিওএইচএস পার্কে অনুষ্ঠিত “চা-এড্ডা” অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের গঠনকে কেন্দ্র করে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অঞ্চল ও পটভূমির মানুষ যদি একসাথে কাজের ইচ্ছা রাখে, তবে তাদের জন্য একটি সমন্বিত মঞ্চ তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা জরুরি। এ ধরনের ব্যবস্থা সমাজের সকল স্তরের নাগরিককে রাষ্ট্র গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে সক্ষম করবে।
এই আলোচনা যুবকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এবং আয়োজনের দায়িত্ব নেওয়া ছিল বিএনপি নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির কন্টেন্ট জেনারেশন টিমের। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে জাইমা তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, যা তার রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন।
ডিজিটাল যুগে সাইবার বুলিংকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, আইনগত ব্যবস্থা একা যথেষ্ট নয়; সেগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, নারীরা প্রায়শই হিংসা ও বুলিংয়ের শিকার হয়ে জনমঞ্চ থেকে দূরে সরে যায়, এবং এধরনের মানসিকতা পরিবর্তন করা কঠিন কাজ।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও তিনি সমতা আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য কমাতে প্রাথমিক স্তর থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে তিনি বলেন। পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিদ্যমান ফাঁক কমিয়ে সমান মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
শহুরে অবকাঠামো সম্পর্কেও জাইমা তার মতামত শেয়ার করেন। তিনি নিরাপদ ফুটপাত ও যথাযথ রাস্তালাইটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, যদি এইসব বিষয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে উন্নত করা হয়, তবে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারবে এবং গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র দশ থেকে পনেরো মিনিটের হাঁটা হলেও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে।
নিজের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি হেসে উত্তর দেন, “ইন শা আল্লাহ, আমরা একসাথে কাজ করতে পারি; একা কাজ করা সম্ভব নয়।” এই উত্তর থেকে তিনি দলীয় সংহতি ও যৌথ প্রচেষ্টার প্রতি তার বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বাধা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তিনি জোর দিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের সরাসরি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যা মতবৈচিত্র্যের সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। তাই রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে যতটা সম্ভব উন্মুক্ত রাখা উচিত, যাতে প্রত্যেকের মতামত শোনা যায়।
শেষে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ঢাকা শহরের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন, যেখানে বিভিন্ন পেশা, সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষ একসাথে বাস করতে পারে। তিনি আশাবাদী যে সমন্বিত মঞ্চ ও ন্যায়সঙ্গত নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।
এই বক্তব্যগুলো ভবিষ্যতে বিএনপি’র নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নারীর অংশগ্রহণ, সাইবার নিরাপত্তা, শিক্ষা সমতা ও নগর পরিকল্পনা সংক্রান্ত আলোচনায়। জাইমা রহমানের এই আহ্বান দলীয় কৌশল ও জনমত গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে অন্তর্ভুক্তি ও সমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।



