19 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্য১৩ বছর বয়সী কিশোরের ৪ কিলোমিটার সাঁতার, অস্ট্রেলিয়ার তীরে পরিবারকে রক্ষা করলেন

১৩ বছর বয়সী কিশোরের ৪ কিলোমিটার সাঁতার, অস্ট্রেলিয়ার তীরে পরিবারকে রক্ষা করলেন

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলের জিওগ্রাফ বে-তে শুক্রবার বিকেলে একটি পরিবার প্যাডেলবোর্ড ও কায়াক চালাচ্ছিল। হঠাৎ তীব্র বাতাসের কারণে তাদের ইনফ্লেটেবল জাহাজগুলো বিচ্যুত হয়ে সমুদ্রের দিকে ধাক্কা খায়। পরিবারে ৪৭ বছর বয়সী মা, ১৩ বছর বয়সী কিশোর, ১২ বছর বয়সী ভাই এবং ৮ বছর বয়সী বোন ছিল।

বালকটি প্রথমে কায়াক দিয়ে তীরে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে সতর্কতা জানাতে চায়, তবে কায়াকের মধ্যে পানি ভরে যায়। ফলে তাকে প্যাডেল ছেড়ে বাকি প্রায় চার কিলোমিটার (দুই নটিক্যাল মাইল) সাঁতার কাটতে হয়। প্রথম দুই ঘন্টা তিনি লাইফ জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় সাঁতার কাটেন, পরে তা ছেড়ে আরও দুই ঘন্টা জ্যাকেট ছাড়া সাঁতার চালিয়ে যান।

প্রায় সন্ধ্যা ছয়টায় (স্থানীয় সময়) তিনি তীরবর্তী কুইন্ডালাপ বিচে সাহায্যের জন্য সংকেত দেন। এই সংকেতের ফলে স্থানীয় উদ্ধার দল দ্রুত কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা আটটায় (স্থানীয় সময়) একটি রেসকিউ হেলিকপ্টার পরিবারকে সমুদ্রের ১৪ কিলোমিটার দূরে একটি প্যাডেলবোর্ডে আটকে থাকা অবস্থায় খুঁজে পায়।

হেলিকপ্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবী সামুদ্রিক উদ্ধার নৌকা দ্রুত তাদের অবস্থানে পৌঁছে তিনজনকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসে। উদ্ধারকৃত পরিবারকে পরবর্তীতে পারামেডিক্সের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় পুলিশ ও সামুদ্রিক উদ্ধার সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, পরিবারে থাকা সকলেই লাইফ জ্যাকেট পরিধান করেছিল, যা তাদের বেঁচে থাকার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদুপরি, ১৩ বছর বয়সী কিশোরের দৃঢ়সংকল্প ও শারীরিক সক্ষমতা পুরো ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্রুত পরিবর্তনশীলতা সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ ইনস্পেক্টর জেমস ব্র্যাডলি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রের অবস্থা হঠাৎ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সঠিক সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সতর্ক থাকা জরুরি।

সামুদ্রিক উদ্ধার সংস্থার কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড কিশোরের প্রচেষ্টাকে ‘অসাধারণ’ এবং ‘মানবিক সীমার বাইরে’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি যোগ করেন, কিশোরের সাহসিকতা ও ত্যাগের মাধ্যমে তার মা ও ছোট ভাইবোনের জীবন রক্ষা হয়েছে।

এই ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় সাড়া ফেলেছে। অনেকেই কিশোরের বীরত্বের প্রশংসা করে সামাজিক মাধ্যমে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে সমুদ্রের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে এমন দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, এই ঘটনা সমুদ্রের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি এবং সঠিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন থেকে সমুদ্রের নিকটে জলক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সকলকে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক পরিধানের নির্দেশনা জোরদার করবে।

সামগ্রিকভাবে, কিশোরের অদম্য সংকল্প ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে একটি পরিবারকে সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে সমুদ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে শক্তিশালী করার প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments