ব্লকবাস্টার পরিচালক রোহিত শেট্টির বাড়িতে গতকাল সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটার পর, তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্ধু ও পরিচিতদের বাড়ি না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। গুলিবিদ্ধের দায়িত্ব স্বীকার করেছে বিশনয় গ্যাং, যা পূর্বে চলচ্চিত্র জগতের কয়েকজনকে লক্ষ্যবস্তু করে ছিল।
ঘটনাস্থলটি মুম্বাইয়ের একটি উচ্চমানের বাসা, যেখানে শেট্টি এবং তার পরিবার বাস করতেন। গুলিবিদ্ধের সময় একাধিক গুলি ছোড়া হয়, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি; তবে শেট্টি তীব্র শারীরিক ও মানসিক আঘাত পেয়েছেন। গ্যাংটি গুলিবিদ্ধের পর দ্রুত পালিয়ে যায়, এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে শেট্টির কাছ থেকে অসংখ্য ফোন ও মেসেজের ঝড় দেখা দেয়। শিল্পের সহকর্মী, ভক্ত এবং মিডিয়া প্রতিনিধিরা তার স্বাস্থ্যের খবর জানার জন্য একে একে যোগাযোগ করে। এই অব্যাহত যোগাযোগ শেট্টির মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে, যা তার দ্রুত পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মুম্বাই পুলিশ শেট্টি ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নির্দেশ জারি করেছে। তদন্তের সময় শেট্টিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো অতিরিক্ত হুমকি বা হস্তক্ষেপ না ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তারা গ্যাংয়ের সদস্যদের সন্ধানে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
শেট্টির কাছের একজন অভিনেত্রী-বন্ধু এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, শেট্টি নিজে থেকেই সকল বন্ধু ও পরিচিতদের বাড়ি না আসতে অনুরোধ করেছেন। তিনি যোগ করেন, শেট্টির জনপ্রিয়তা ও শিল্পে তার অবস্থান বিবেচনা করে, গুলিবিদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ফোনে উদ্বেগজনক কলের পরিমাণ বেড়েছে।
বন্ধুদের না আসার অনুরোধটি শেট্টির নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখলে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে কোনো বাধা না থাকে এবং গ্যাংয়ের পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা সহজ হয়।
শেট্টির দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহ-অভিনেতা অজয় দেবগণও এই নির্দেশ মেনে চলতে সম্মত হয়েছেন। দেবগণ শেট্টিকে মানসিক সমর্থন জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে তিনি একা নন এবং প্রয়োজনীয় সব সাহায্য পাবেন। তবে, আইনগত নির্দেশনা অনুসারে তিনি শেট্টির বাড়িতে কোনো ভিজিট করবেন না।
গ্যাংটি শেট্টিকে লক্ষ্যবস্তু করে গুলিবিদ্ধের পরিকল্পনা করেছিল, যা স্পষ্টতই তার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। গ্যাংয়ের উদ্দেশ্য ছিল শেট্টির ওপর ভয় দেখিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পে পুনরায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া, যা ১৯৯৯-২০০০ সালের সময়কালে ঘটেছিল। এই সময়ে গ্যাংটি বেশ কয়েকটি হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল।
ঘটনার পর শেট্টি তার সকল পাবলিক ইভেন্ট ও প্রচারমূলক কাজ বাতিল করেছেন। তিনি যে কোনো ফিল্মের প্রিমিয়ার, টেলিভিশন শো বা মিডিয়া সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে অস্বীকার করেছেন, যাতে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং গ্যাংয়ের মনোভাব না বাড়ে।
১৯৯৯-২০০০ সালে গ্যাংটি চলচ্চিত্র জগতের কয়েকজনকে লক্ষ্যবস্তু করে গুলিবিদ্ধের পরিকল্পনা করেছিল, যা শিল্পে বিশাল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। সেই সময়ের স্মৃতি এখনও শিল্পী ও কর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের কারণ। শেট্টির বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ঐ সময়ের তুলনা করা হয়েছে, কারণ উভয়ই গ্যাংয়ের পুনরাবৃত্তি হুমকির ইঙ্গিত দেয়।
শিল্পের বিভিন্ন গোষ্ঠী এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানাচ্ছে। গ্যাংয়ের পুনরায় সক্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের মুখে, চলচ্চিত্র সংস্থা ও প্রযোজকরা নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। শেট্টির ঘটনা এই আলোচনার ত্বরান্বিত করে তুলেছে।
শেট্টি ও তার পরিবার বর্তমানে পুলিশ নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। তদন্ত চলমান থাকায়, গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শিল্পের সকল অংশীদারকে এই কঠিন সময়ে শেট্টির প্রতি সমর্থন জানিয়ে, নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



