ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম (IFFR) আজ সন্ধ্যায় ৫৫তম সংস্করণের হারবার প্রোগ্রামে নতুন সাই-ফাই ডকুমেন্টারি ‘Hungry’‑এর বিশ্বপ্রদর্শনী আয়োজন করেছে। এই চলচ্চিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া, বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত পরিচালক সুসান্নে ব্র্যান্ডস্ট্যাটার রচিত, যিনি ‘This Land Is My Land’ নামে পূর্বে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছেন।
‘Hungry’ শিরোনামটি মানবজাতি ও গ্রহের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে তৈরি, যেখানে খাবার, পরিবেশ, ব্যবসা ও রাজনীতির অস্বাভাবিক প্রবণতাগুলোকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি কোনো মানব চরিত্রকে সরাসরি উপস্থাপন না করেও দর্শকের কাছে গভীর অভিজ্ঞতা প্রদান করতে চায়, ফলে এটি একটি ইমারসিভ সিনেমাটিক যাত্রা হিসেবে বিবেচিত।
ব্র্যান্ডস্ট্যাটার চলচ্চিত্রটি তৈরির সময় ‘অপ্টিমিস্টিক’ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও ডকুমেন্টারিতে মানবের উপস্থিতি নেই, তবু তা নিঃসন্দেহে অন্ধকারময় বা ধ্বংসাত্মক নয়; বরং শেষ পর্যন্ত একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। তার মতে, পুরো চলচ্চিত্র দেখার পর দর্শকরা বুঝতে পারবেন যে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এখনও সম্ভব।
ডকুমেন্টারির কাঠামোতে একটি নাটকীয় মোড় রয়েছে, যা গল্পের প্রবাহে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আনে, তবে তা কোনো ধ্বংসের পূর্বাভাস নয়। এই মোড়টি দর্শকের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলতে এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা বাড়াতে সহায়তা করে। চলচ্চিত্রের নির্মাতা এটিকে ‘ডুম‑মংগারিং’ না করে ‘চিন্তাশীল ও আবেগপ্রবণ’ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
‘Hungry’‑এর প্রিমিয়ার IFFR‑এর হারবার লাইন‑আপে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হয়েছে। এই ফেস্টিভ্যালটি প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও শিল্প পেশাদারদের একত্রিত করে, এবং নতুন সৃষ্টিকর্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ সরবরাহ করে।
চলচ্চিত্রের থিমগুলো আধুনিক সমাজের মুখোমুখি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত, যেমন খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশগত সংকট, কর্পোরেট নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব। এসব বিষয়কে সাই-ফাই দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে, ‘Hungry’ দর্শকদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চায়।
ডকুমেন্টারির নির্মাণে ব্যবহার করা ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত, যা দর্শকের ইন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করে। বিশেষ করে রঙের ব্যবহার ও সাউন্ড ডিজাইনকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে দর্শক নিজেকে গল্পের মধ্যে ডুবে অনুভব করে। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রকে কেবল তথ্যগত নয়, বরং অভিজ্ঞতামূলকও করে তুলেছে।
ব্র্যান্ডস্ট্যাটার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে একটি সামাজিক বার্তা পৌঁছে দিতে চান: মানুষকে পরিবেশ ও খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে সক্রিয়ভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রটি দেখার পর দর্শকরা নিজেদের জীবনে কী পরিবর্তন আনতে পারে তা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে।
‘Hungry’‑এর প্রথম দৃশ্যগুলোতে অদ্ভুত খাবারের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও তার পরিবেশগত প্রভাবকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। এই অংশগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ফেস্টিভ্যালের অংশগ্রহণকারীরা চলচ্চিত্রের পর একটি প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশ নিতে পারবেন, যেখানে পরিচালক তার সৃষ্টিকর্মের পেছনের ধারণা ও প্রেরণা সম্পর্কে আরও বিশদে আলোচনা করবেন। এই সেশনটি দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত।
‘Hungry’ ডকুমেন্টারির ক্লিপটি থিয়েটার হল রিডারস (THR) এক্সক্লুসিভভাবে প্রকাশ করেছে, যা চলচ্চিত্রের মূল থিম ও ভিজ্যুয়াল স্টাইলের একটি স্বাদ প্রদান করে। ক্লিপটি দেখার পর দর্শকরা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক টোন ও বার্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারেন।
চলচ্চিত্রের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই ডকুমেন্টারিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ডকুমেন্টারি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ‘Hungry’ একটি সাই-ফাই ডকুমেন্টারি হিসেবে শুধু বিনোদনই নয়, বরং গভীর সামাজিক ও পরিবেশগত প্রশ্ন উত্থাপন করে। দর্শকদের জন্য এটি একটি নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, যা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আপনি যদি ভবিষ্যৎ, পরিবেশ ও খাবারের সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত হন, তবে এই চলচ্চিত্রটি দেখার পর আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আরও সমৃদ্ধ হবে। এখনই IFFR‑এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট বুক করুন এবং ‘Hungry’‑এর বিশ্বপ্রদর্শনীতে অংশ নিন।



