রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, রংপুর-৪ নির্বাচনী পদযাত্রার পথসভায় এনসিপিআই সদস্য সচিব আখতার হোসেন নারীর ওপর চলমান আক্রমণ ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো ব্যক্তি নারীর প্রতি ‘বাঁদরামি’ করে, তবে তাকে গাছে একে একে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ে সাম্প্রতিক ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যেখানে গতকালই নারীদের ওপর নতুন এক আক্রমণ ঘটেছে।
আখতার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে জুলুমের শিকার হয়েছে এবং গৌরবময় স্বাধীনতার পরেও দুর্নীতি, ঘুস এবং রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের মুখে আছে। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত-এ-ইসলামি সহ ১১ দলীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে।
এনসিপিআই এবং জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন এই জোটের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি দালাল ও নেতার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি জনগণের দরজায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্যে তিনি সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে বোর্ডের মাধ্যমে প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে নাগরিকরা আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তিনি গর্ভবতী মায়েদের জন্য ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই সেবা ইনশাআল্লাহ পুরো রংপুর জুড়ে চালু হবে এবং বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় প্রসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া, তিনি স্বাস্থ্য কার্ডের বিষয়েও মন্তব্য করে বলেন, সরকারী স্বাস্থ্য সেবা সরাসরি দরজায় পৌঁছাবে, ফলে নাগরিকদের অতিরিক্ত কোনো বাধা থাকবে না।
আখতার হোসেন ভোটের গুরুত্বেও জোর দেন, তিনি বলেন গণভোটের সময় আর কোনো বিকল্প নেই এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি দেশের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন যদি ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করে।
বক্তৃতার শেষে তিনি রংপুরের স্থানীয় নেতা আবু সাঈদ চেংড়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন, চেংড়া ছেলে যদি দুই হাত পেতে না দিত, তবে ফ্যাসিবাদ মুক্তি পেত না। তিনি এই উদাহরণকে ব্যবহার করে দাবি করেন, চেংড়া কাজের মাধ্যমে রংপুর এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দেশের অনিয়ম দূর হবে।
বক্তব্যের পর কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী দল এই রকম হুমকি ভিত্তিক ভাষ্যকে অপ্রয়োজনীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা যথেষ্ট, তবে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো হুমকি সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তবে এনসিপিআই পক্ষ থেকে কোনো সংশোধনমূলক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
এই রকম রেটোরিকের ফলে রংপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে। এনসিপিআই এবং তার জোটের নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, যদি ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করে, তবে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর হবে এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।



