লস এঞ্জেলেসে ৬৮তম গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানের প্রথম রাত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ শুরু হয়, যেখানে সঙ্গীত জগতের শীর্ষ শিল্পীরা পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অনুষ্ঠানটি প্রধান টেলিকাস্টের আগে প্রি-টেলিকাস্টে বেশিরভাগ জেনার ক্যাটেগরি ঘোষণা করা হয়, আর মূল দৃষ্টিপাতের কেন্দ্রবিন্দু হল জেনারল ফিল্ডের পাঁচটি প্রধান পুরস্কার—অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার, রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সঙ অব দ্য ইয়ার, বেস্ট নিউ আর্টিস্ট এবং বেস্ট পারফরম্যান্স।
প্রি-টেলিকাস্টে জেনার ক্যাটেগরি নির্ধারিত হওয়ার পর, সাধারণ ফিল্ডে নোমিনেশনগুলো প্রকাশিত হয়। ব্যাড বানি, কেন্ড্রিক লামার, লেডি গাগা এবং স্যাব্রিনা কার্পেন্টার অ্যালবাম, রেকর্ড ও সঙ অব দ্য ইয়ার ক্যাটেগরিতে নাম লেখায়। তাদের পাশাপাশি বিলি ইলিশ, চ্যাপেল রোয়ান এবং ডোচি নামের তরুণ শিল্পীরাও এই তিনটি পুরস্কারের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
কেন্দ্রস্থ শিল্পী কেন্ড্রিক লামার মোট নয়টি নোমিনেশন নিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করে, যা তাকে সর্বোচ্চ নোমিনেটেড করে তোলে। রাতের প্রথম পুরস্কারটি তিনি জিতেন—বেস্ট র্যাপ অ্যালবাম, যেখানে তার অ্যালবাম “GNX” ক্লিপসের “Let God Sort Em Out” এবং টাইলার দ্য ক্রিয়েটরের “Chromakopia”কে পরাজিত করে। উল্লেখযোগ্য যে এই তিনটি র্যাপ অ্যালবামই অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার ক্যাটেগরিতে তালিকাভুক্ত।
প্রি-টেলিকাস্টে লামার ইতিমধ্যে বেস্ট মেলোডিক র্যাপ পারফরম্যান্স এবং বেস্ট র্যাপ সঙ পুরস্কার জিতেছিলেন। একই সময়ে ক্লিপস “Chains and Whips” গানের জন্য বেস্ট র্যাপ পারফরম্যান্স পুরস্কার পায়, যেখানে লামারও ফিচার হিসেবে অংশ নেন। এই অর্জনগুলো লামারকে গ্র্যামি ইতিহাসে সর্বাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত র্যাপার হিসেবে চিহ্নিত করে, জে-জেডের পূর্বের রেকর্ডকে অতিক্রম করে।
রাতের পারফরম্যান্সে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। রোজ এবং ব্রুনো মার্স প্রথমে মঞ্চে এসে গ্লোবাল হিট “Apt” গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এরপর স্যাব্রিনা কার্পেন্টার “Manchild” গানের সঙ্গে এক অনন্য পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি বিমানবন্দরের পাইলটের ভূমিকায় অভিনয় করে গানের থিমকে জীবন্ত করে তোলেন। টাইলার দ্য ক্রিয়েটর, লেডি গাগা এবং ক্লিপসেরাও নিজ নিজ পারফরম্যান্স দিয়ে অনুষ্ঠানকে রঙিন করে তোলেন।
ব্রেকের পর জাস্টিন বিবার ২০২২ সালের পর প্রথমবার গ্র্যামিতে ফিরে আসেন, তার নতুন অ্যালবাম “Swag” অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার ক্যাটেগরিতে নাম লেখায়। বিবারের উপস্থিতি শোতে অতিরিক্ত উত্তেজনা যোগ করে। এছাড়া বেস্ট নিউ আর্টিস্টের আটজন নোমিনেটেডও মঞ্চে এসে তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করেন, যা নতুন শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়ায়।
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে স্মরণীয় একটি সেগমেন্টে লরিন হিল, রেবা ম্যাকইন্টার এবং পোস্ট মালোনের নামে সম্মান জানিয়ে ডি’অ্যাঞ্জেলো, রবার্টা ফ্ল্যাক এবং ওজি ওসবার্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই ইন মেমোরিয়াম পারফরম্যান্সটি শিল্পের অতীতকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
কেন্দ্রস্থ শিল্পী লামার গত বছর “Not Like Us” গানের মাধ্যমে রেকর্ড ও সঙ অব দ্য ইয়ার জয় করে ছিলেন। এবার তিনি একই ক্যাটেগরিতে পুনরায় জয়লাভের সম্ভাবনা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছেন। তার অ্যালবাম “GNX” অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার তালিকায় রয়েছে, ফলে লামারকে পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে এসেছে।
সারসংক্ষেপে, গ্র্যামি ২০২৬-এ সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখা থেকে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা একসাথে মিলে একটি স্মরণীয় রাত তৈরি করেছে। কেন্ড্রিক লামার প্রথম পুরস্কার জয়, স্যাব্রিনা কার্পেন্টার ও রোজের চমকপ্রদ পারফরম্যান্স, এবং জাস্টিন বিবারের প্রত্যাবর্তন সবই এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা এখনও অজানা, তবে এই রাতের ঘটনাগুলো সঙ্গীতের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।



