লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত inaugural FIFA Women’s Champions Cup ফাইনালে আর্সেনাল ৩-২ স্কোরে করিন্থিয়ান্সকে পরাজিত করে বিশ্ব শীর্ষ ক্লাবের গর্ব পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে শেষ হয়ে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায়।
প্রথমার্ধে ১৫তম মিনিটে স্মিথের গোল দিয়ে আর্সেনাল প্রারম্ভিক সুবিধা পায়, এরপর ২১তম মিনিটে করিন্থিয়ান্সের জ্যানোত্তি সমান স্কোর করে। অর্ধেকের শেষে ৫৮তম মিনিটে উববেন-ময় আরেকটি গোল করে আর্সেনালকে ২-১ করে এগিয়ে রাখে।
করিন্থিয়ান্স ৯০+৬ মিনিটে আলবুকার্কে পেনাল্টি দিয়ে সমতা রক্ষা করে, ফলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে প্রবেশ করে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৪তম মিনিটে ফোর্ডের শট গন্তব্যে পৌঁছে, যা শেষের ফলাফল নির্ধারণ করে।
এই জয় আর্সেনালের জন্য ঐতিহাসিক, কারণ এটি ক্লাবের প্রথম FIFA Women’s Champions Cup ট্রফি এবং তাদের বিশ্ব শীর্ষ ক্লাবের মর্যাদা নিশ্চিত করে। ইংল্যান্ডের সর্বাধিক সজ্জিত নারী ক্লাব হিসেবে আর্সেনাল এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার আধিপত্য প্রমাণ করেছে।
টুর্নামেন্টের সময়সূচি লন্ডনে নির্ধারিত হওয়ায় আর্সেনাল মাঝ-সিজনে পূর্ণ ফিটনেসে খেলতে পেরেছে, যেখানে করিন্থিয়ান্স প্রি-সিজনে ছিল এবং গথাম FC অফ-সিজনে ছিল। এই শারীরিক প্রস্তুতির পার্থক্য ম্যাচের গতি ও গুণগত মানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আর্সেনালের বর্তমান WSL লিডার ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১৩ পয়েন্টের পার্থক্য রয়েছে, যদিও তাদের একটি গেম বাকি আছে। এই ব্যবধান সত্ত্বেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জয় ক্লাবের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ফাইনালের আগে দলটির মনোভাব কিছুটা অবাক ছিল, কারণ এই টুর্নামেন্টটি তাদের শিডিউলে অপরিহার্য নয় এবং চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ WSL ম্যাচের মাঝখানে বসে আছে। তবে খেলোয়াড়রা দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ম্যাচে মনোযোগী হয়েছে।
সেমি-ফাইনালে আর্সেনাল মরক্কোর চ্যাম্পিয়ন এএস ফারকে ৬-০ স্কোরে পরাজিত করে সহজে অগ্রসর হয়। অর্ধেকের শেষে চার গোলের সুবিধা নিয়ে কোচরা পরিবর্তন ও সময় ব্যবস্থাপনা করে দলকে বিশ্রাম দেয়।
এএস ফারকে যদিও ভাল গঠন ছিল, তবে ইউরোপীয় ও আফ্রিকান নারী ফুটবলের মধ্যে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই পার্থক্যই আর্সেনালের আধিপত্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
করিন্থিয়ান্সের সেমি-ফাইনালে গথাম সিটি (Gotham FC) কে পরাজিত করার পর ব্রাজিলীয় ভক্তদের মধ্যে টাইটেল বাড়িয়ে নেওয়ার ইচ্ছা স্পষ্ট ছিল। কোচ লুকাস পিকিনাটোও এই লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।
ম্যাচের শেষে ভক্তদের উল্লাসে দেখা যায় যে ব্রাজিলীয় দলটি দুইবার পিছিয়ে থেকে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়, তবে শেষ পর্যন্ত আর্সেনালের অভিজ্ঞতা ও শারীরিক প্রস্তুতি জয় নিশ্চিত করে।
আর্সেনাল এখন লিগের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে চেলসির সঙ্গে মুখোমুখি হবে এবং পরে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে শিরোপা লড়াই চালিয়ে যাবে। এই জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে।



