ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, জামায়াত-এ-ইসলামি ও অন্যান্য ১০টি দল সমন্বিত ১১ দলীয় জোটের কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের প্রার্থী, রোববার বিকেল ১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় উল্লেখযোগ্য বক্তব্য রাখেন। তিনি জোটের জয়লাভের পর দেশের দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হবে বলে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেন।
সেই সভায় ডা. তাহের উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা অর্জনের ৫৪ বছর পরেও সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোনো কাঠামোগত সংস্কার দেখা যায়নি; প্রতিটি শাসনকালে দুর্নীতি অব্যাহত ছিল এবং বাংলাদেশ তিনবার আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতির শীর্ষে স্থান পেয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে দুর্নীতির অবসরের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটবে।
ডা. তাহের আরও উল্লেখ করেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় বর্তমান নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, গুণগত পার্থক্যও বহন করে। তিনি জোটের গঠন সম্পর্কে বলেন, এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী এবং ইসলামিক সমমনা দলগুলো অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা আনবে।
সভায় শুভপুর ইউনিয়নের জামায়াত-এ-ইসলামি আমির ডা. মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মসলিসে শূরা সদস্য ডা. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাশারসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিতি ডা. তাহেরের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে উল্লাসে মাতিয়ে তুলেন।
ডা. তাহেরের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো বিরোধী দলের প্রতিনিধির মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনী পর্যায়ে অন্যান্য দলগুলো সাধারণত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে, যা ভবিষ্যতে জোটের নীতি-নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. তাহেরের মতে, দেশের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দুর্নীতি দমনই একমাত্র মূলমন্ত্র। তিনি জোটের শাসনামলে স্বচ্ছতা, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্নবীকরণকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
এই রেলিক্সের মাধ্যমে ডা. তাহের জোটের ভোটারদের কাছে একটি পরিষ্কার বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছেন—দুর্নীতি বন্ধ, স্বৈরাচার শেষ এবং গণতন্ত্রের নতুন সূচনা। তিনি আশাবাদী যে, ভোটাররা এই প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে “ভালো মানুষদের” ভোট দেবেন।
অধিকন্তু, ডা. তাহের উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতি পরিবর্তন না হওয়ায় দেশের উন্নয়ন ধীরগতিতে অগ্রসর হয়েছে। তিনি জোটের শাসনামলে অর্থনৈতিক নীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার আনার পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যদিও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই জনসভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে ডা. তাহেরের বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকরা তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আশাবাদী, আর বিরোধীরা ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের এই প্রকাশনা ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্বাচনী কৌশলকে স্পষ্ট করে। তিনি জোটের শাসনামলে দুর্নীতি নির্মূল, স্বৈরাচার অবসান এবং গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণকে মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, কুমিল্লা-১১ আসনে ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হবে, যা জোটের ক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা ও দেশের নীতি পরিবর্তনের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



