রিয়াল মাদ্রিদ রায়ো ভ্যালেকানোকে ২-১ স্কোরে পরাজিত করে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০০তম মিনিটে পেনাল্টি গুলি করে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয় রিয়ালকে টেবিলের শীর্ষে বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের পার্থক্য একে নামিয়ে আনে, কারণ রিয়াল গতকাল এলচে পরাজয় করে শীর্ষে উঠেছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ দ্রুত অগ্রগতি করে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ১৫তম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে রাখে। ভিনিসিয়াসের শটটি পেনাল্টি এলাকার ভিতরে থেকে উচ্চে গিয়ে অগুস্তো বাতাল্লার উপরে গিয়ে নেটের মধ্যে ঢুকে যায়।
ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম গেমের শুরুর দিকে পেশীর টান অনুভব করে মাঠ ছেড়ে যান, যা রিয়ালের আক্রমণকে সাময়িকভাবে ধীর করে দেয়। তার পরিবর্তে রিয়ালের রক্ষণে থিবাউট কুরোয়েসের উপস্থিতি দলকে স্থিতিশীল রাখে।
রায়ো ভ্যালেকানো প্রথমার্ধের শেষের দিকে আক্রমণ চালিয়ে, ইলিয়াস আহোমাচের শটটি পোস্টের কাছাকাছি গিয়ে মিস করে। একই সময়ে আরদা গুলের শটটি বাতাল্লা রক্ষা করেন, এবং ভিনিসিয়াসের রিবাউন্ডও নেটের বাইরে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রায়ো ভ্যালেকানো সমতা অর্জন করে। আলভারো গার্সিয়া ডিফ্লুটোসের জন্য ক্রস দেন, ডিফ্লুটোস হেড করে গোল করে রিয়ালের নেতৃত্বকে সমান করে। এই গোলটি রায়োর একমাত্র গোল হয়ে থাকে।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে রিয়ালের প্যাটে সিসের লাল কার্ড দেখানো হয়, ফলে রায়ো ভ্যালেকানো মাত্র নয়, এক খেলোয়াড় কমে আটজন হয়ে যায়। একই সময়ে রায়োর কোচ পেপ চাভারিয়া ও লাল কার্ড পান, যা দলকে আরও এক খেলোয়াড় কমিয়ে দেয়।
রিয়াল মাদ্রিদ পুনরায় আক্রমণ চালিয়ে, অ্যান্ড্রেই রাটিয়ু এক ঘণ্টা পরে একক চালিয়ে কুরোয়েসের সামনে শট নেয়, তবে গার্ডিয়ান গোলরক্ষক চমৎকার সেভ করে গেমটি রক্ষা করেন।
গেমের শেষের দিকে রিয়ালের আক্রমণ তীব্র হয়, এবং এমবাপ্পে পেনাল্টি জোনে ফাউল পান। রিয়াল মাদ্রিদের পেনাল্টি কিকার এমবাপ্পে শটটি সঠিকভাবে গন্তব্যে পাঠিয়ে ১০০তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদের ভক্তরা স্টেডিয়ামের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়; পূর্বে বার্সেলোনা এবং লেভান্তের ম্যাচে যেমন তারা নিজেদের খেলোয়াড়কে তালি দিয়েছিল, এইবারও কিছু ভক্ত দলকে তালি দিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে।
রিয়ালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে কিছু উত্থান-পতন দেখা যায়। সপ্তাহের মাঝখানে বেনফিকায় পরাজয় রিয়ালকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফ রাউন্ডে নামিয়ে দেয়, যা ভক্তদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ায়। তবে রিয়াল মাদ্রিদের এই জয় টেবিলের শীর্ষে পুনরায় ফিরে আসতে সহায়তা করে।
পরবর্তী ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের শিডিউলে লা লিগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি রয়েছে, যেখানে দলটি শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের লড়াই চালিয়ে যাবে। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটি আক্রমণাত্মক শৈলী বজায় রাখবে এবং রক্ষণে কুরোয়েসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
সারসংক্ষেপে, রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ জয় কিলিয়ান এমবাপ্পের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের প্রারম্ভিক গোলের সমন্বয়ে সম্ভব হয়েছে। রায়ো ভ্যালেকানোয়ের এক খেলোয়াড়ের কমে যাওয়া এবং রিয়ালের রক্ষণে কুরোয়েসের দৃঢ় পারফরম্যান্স দলকে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।



