সম্পাদক পরিষদ আজ জাতীয় মিডিয়া কমিশন ও সম্প্রচার কমিশনের দুটি খসড়া আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও সময়সূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই খসড়া আইনগুলো তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এবং নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে প্রকাশের ফলে তাদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সাইটে উন্মুক্ত করা এই নথিগুলো মিডিয়া স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মানদণ্ড এবং দেশের সম্প্রচার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎকে সরাসরি প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে। নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইনকে দ্রুত প্রকাশ করা পরিষদের মতে অযৌক্তিক এবং অনুচিত।
সম্পাদক পরিষদ জোর দিয়ে বলেছে যে, মিডিয়া স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন আইনগুলোকে যথাযথ আলোচনা ও পর্যালোচনা ছাড়া গৃহীত করা যায় না। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই খসড়া আইনগুলোতে প্রস্তাবিত কাঠামো ও বিধানগুলো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত করে, যা মিডিয়া স্বাধীনতার সুরক্ষার চেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়।
বিষয়টি নিয়ে পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খসড়া আইনগুলোর ধারা ও নকশা স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বাড়ানোর সম্ভাবনা নির্দেশ করে। তারা আরও উল্লেখ করেছেন, সীমিত সময়ের মধ্যে মতামত সংগ্রহের উদ্যোগটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরোধী।
পরিষদ দাবি করেছে যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন নির্বাচিত সংসদ গঠনের পরই করা উচিত, এবং এতে সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বিস্তৃত ও অর্থবহ পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হলে মিডিয়া ক্ষেত্রের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, দ্রুত আইন প্রণয়নের পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং দায়িত্বশীল পদ্ধতি দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে বেশি উপকারী হবে। তারা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে যে, মিডিয়া সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হোক।
এই উদ্বেগের প্রকাশের ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে। নির্বাচনের আগে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় কীভাবে এই প্রতিক্রিয়ার উত্তর দেবে এবং খসড়া আইনগুলোতে সংশোধন আনা হবে কিনা তা দেখা বাকি। সম্পাদক পরিষদ দাবি করে যে, সংশোধন প্রক্রিয়ায় সকল স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে আইন প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে মিডিয়া স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যথাযথ সুরক্ষা থাকে।



