দূদক (ডুডক) আজ প্রকাশিত সিদ্ধান্তে জানিয়েছে যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)‑এর বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দূদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইডিসিএলের বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) বিদেশে ভ্রমণ করতে চাওয়ায় আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে সাবেক এমডি সহ ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দূদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহমেদ এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে জানান, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী ইডিসিএলের সাবেক এমডি অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া পাঁচজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। এই অনিয়মের ফলে কোম্পানির প্রায় ৩৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৪৩ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
দূদক উল্লেখ করেছে যে, দণ্ডবিধি আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের প্রাসঙ্গিক ধারার অধীনে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাবেক এমডি ডা. এহসানুল কবির পাশাপাশি, সাবেক অর্থ পরিচালক (সিসি) ও কোম্পানি সচিব মুহাম্মদ খুরশিদ আলম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রকিউরমেন্ট) সৈয়দ জহির উদ্দিন জামাল, সাবেক উপ‑মহাব্যবস্থাপক (প্রকিউরমেন্ট) মো. শওকত আলী, সাবেক উপ‑মহাব্যবস্থাপক (ভান্ডার) এ কাইয়ূম খান এবং সাবেক ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) বিকাশ কুমার সরকারকেও আসামি করে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দূদক সূত্রে জানা যায়, ইডিসিএলের বর্তমান এমডি এম. সামাদ মৃধার (মার্কিন নাগরিক) লোপাট এবং হরমোনাল ওষুধের কাঁচামাল ডেসোগেস্টরেল ইউএসপি ক্রয়ের আড়ালে সিন্দিকেট করে বিশাল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তিনি মার্ক অ্যালারাইজ ইন্টারন্যাশনাল ও রিলায়েন্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার জালিয়াতি ও মিথ্যা প্রতিযোগিতা চালিয়ে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন।
দূদক এই অভিযোগের গুরুতরতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। টিমের কাজের অংশ হিসেবে, এম. সামাদ মৃধারকে দেশত্যাগের পথে বাধা দিতে আদালতে তার বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধের আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
দূদক আইনগতভাবে উল্লেখ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগের জন্য দণ্ডবিধি আইনের ধারা ৩৪১, ৩৪২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৪, ১৫ প্রয়োগ করা হবে। মামলার অগ্রগতি ও শাস্তি নির্ধারণের জন্য আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হবে।
ইডিসিএলের আর্থিক ক্ষতি ও অনিয়মের পরিমাণ স্পষ্ট হওয়ায়, দূদক অতিরিক্তভাবে কোম্পানির আর্থিক রেকর্ড ও টেন্ডার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছে। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি, দূদক ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদকে সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে কোনো অননুমোদিত নিয়োগ বা চুক্তি না করা পর্যন্ত কোম্পানির কার্যক্রমে বাধা আরোপ করা হতে পারে।
দূডক কর্তৃক গৃহীত এই পদক্ষেপগুলোকে ইডিসিএলের শেয়ারহোল্ডার ও সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার পূর্ণতা পর্যন্ত সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আদালতে শোনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে এবং তদন্ত টিমের রিপোর্টের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অভিযোগ বা দায়ের করা হতে পারে। সকল সংশ্লিষ্টকে আইনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহে মনোযোগ দিতে হবে।
দূডক ভবিষ্যতে ইডিসিএলের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।



