নৌবাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলমান একাধিক টহল অভিযানে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও নগদ জব্দ করে মোট এগারোজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। এই কার্যক্রমগুলো আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে অপরাধ দমন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নৌ কন্টিনজেন্টগুলো বিভিন্ন জেলার সীমান্ত ও নগর এলাকায় সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
খুলনা সদর নৌ কন্টিনজেন্টের ৬নং ঘাটের কয়লার ডিপো বস্তিতে রবিবার সন্ধ্যায় একটি তল্লাশি পরিচালনা করা হয়। তল্লাশির সময় পাঁচজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয় এবং ১,৩৬৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি ৭৫০ গ্রাম গাঁজা, দুইটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, একটি ডিজিটাল স্কেল এবং নগদ ২,৩৭,৩৬৫ টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা রাসেল হাওলাদার, আকবর তালুকদার, তাসলিমা বেগম, শাহনাজ বেগম এবং হোসনে আরা বেগম।
একই দিনে পাথরঘাটা, চরফ্যান ও তালতলী নৌ কন্টিনজেন্টের পৃথক অভিযানে আরও ছয়জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এই অপারেশনে এক কেজির বেশি গাঁজা, ইয়াবা, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দুইটি বাটন মোবাইল এবং নগদ ২৭,২০০ টাকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রী ও গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ জেলায় নৌ কন্টিনজেন্টের দল গতকাল জুম্মাপাড়া পাহাড়ি এলাকার মানব পাচারকারী চক্রের ঘাঁটিতে অভিযান চালায়। ঘাঁটির নিকটবর্তী ঝোপ থেকে একটি দেশীয় লম্ব ব্যারেল গন, দুইটি এলজি পিস্তল, তাজা গোলা ও কার্তুজ জব্দ করা হয়। এই অস্ত্রগুলো মানব পাচার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদক, অস্ত্র ও নগদ, পাশাপাশি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় অভিযোগ দায়ের করবে এবং আদালতে মামলার শুনানি হবে।
নৌবাহিনীর এই ধারাবাহিক অভিযানগুলো নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ মাদক ও অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে নৌসদস্যরা সক্রিয়ভাবে টহল চালিয়ে যাচ্ছে। মোট পাঁচ হাজার নৌসদস্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
অভিযানগুলোতে জব্দকৃত সামগ্রী ও গ্রেফতারকৃতদের উপর আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর উচ্চতর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং নাগরিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।



