21 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাপ্রধান উপদেষ্টা ইউরোচ্যামকে এফটিএ আলোচনার ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানালেন

প্রধান উপদেষ্টা ইউরোচ্যামকে এফটিএ আলোচনার ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানালেন

ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান উপদেষ্টা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ কয়েক বছরের মধ্যে শেষ হলে, বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজারে এই সুবিধা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

১ ফেব্রুয়ারি রবিবার, ঢাকা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম) এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা এবং দেশের ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা। এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে ৭,৩০০টিরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে, যা দেশের রফতানি কাঠামোর জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের রফতানি পণ্যের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের প্রত্যাশা রাখেন, যাতে রপ্তানি বাজারের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।

ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যদি এলডিসি তালিকা থেকে উত্তীর্ণ হয়, তবে বর্তমান বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই তিনি এফটিএ আলোচনাকে জরুরি ভিত্তিতে শুরু করার পক্ষে সাড়া দেন। লোপেজের মতে, একটি সমন্বিত এফটিএ ইউরোপীয় বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে।

লোপেজ এছাড়া উল্লেখ করেন, ভারত ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে এই ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। উভয় মধ্যম আয়ের দেশ ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুবিধা পেয়ে তাদের রপ্তানি কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে। এই উদাহরণগুলোকে রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশও একই পথে অগ্রসর হয়ে ইউরোপীয় বাজারে তার প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।

বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ব্যবসা পরিবেশের সংস্কার, শুল্ক নীতি পুনর্বিবেচনা এবং রপ্তানি পণ্যের মানোন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এফটিএ আলোচনার দ্রুত অগ্রগতি বাংলাদেশের রপ্তানি শিল্প, বিশেষত তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সেক্টরই দেশের মোট রপ্তানির অধিকাংশ ভাগ দখল করে।

সারসংক্ষেপে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ইউরোচ্যামের প্রতিনিধিরা উভয়ই এফটিএ আলোচনার ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। জাপানের সঙ্গে ইপিএ থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে এফটিএকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments