গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় কৃষকদল নেতা হেলাল উদ্দিন (৫০) রাতের আক্রমণে আহত হন এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পথে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের কোটবাজালিয়া গ্রাম থেকে বাজারের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় প্রায় রাত দশটায় কয়েকজন অপরিচিত আক্রমণকারীর দ্বারা মাথা ও পিঠে আঘাত পান। আক্রমণকারী দ্রুত স্থান ত্যাগ করে যায় এবং আহতকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভোরবেলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার সময় হেলাল উদ্দিনের শ্বাসযন্ত্রের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে এবং রওনা হওয়ার মুহূর্তে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর কাপাসিয়া থানার ওয়াইস কমিশনার শাহীনুর আলম জানান। মৃতের পরিবারকে জানানো হয় যে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি রাত্রিকালীন চিকিৎসা সেবার পর্যাপ্ততা ও সময়মতো রেফারেল না পাওয়ায় তীব্রতর হয়েছে।
হেলাল উদ্দিন কাপাসিয়া উপজেলায় কৃষকদল সংগঠনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং স্থানীয় কৃষক সম্প্রদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। তিনি চাঁদপুর ইউনিয়নের কোটবাজালিয়া গ্রাম থেকে আসা একজন পরিচিত নেতা, যিনি বহু বছর ধরে কৃষক অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছেন। তার পরিবারে সাম্প্রতিককালে একটি ছোট ঘটনা ঘটেছিল; কয়েক দিন আগে পরিবারের একজন সদস্যের মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় এবং এ নিয়ে বাড়িতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে হেলাল উদ্দিন তার নাতিকে তীব্রভাবে তাড়া করেন এবং গালি দেন, যা প্রতিবেশীদের নজরে আসে।
আক্রমণের পরপরই স্থানীয় কৃষকদল সংস্থা তাদের আহ্বায়ক এস এম আবুল কালাম আজাদকে সমবেত করে। তিনি হেলাল উদ্দিনের মৃত্যুকে “পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হামলা” বলে উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়ার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, হেলাল উদ্দিন ছিলেন একটি সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি, যার মৃত্যু কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য বড় ক্ষতি।
কাপাসিয়া থানার ওয়াইস কমিশনার শাহীনুর আলম জানান, বর্তমান পর্যায়ে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, তিনি জানান যে, আক্রমণের সময় ক্যামেরা রেকর্ডিং বা কোনো সাক্ষীর বিবৃতি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ আক্রমণের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দেখছে, ফোন হারানোর বিষয়টি এবং হেলালের নাতির সঙ্গে তর্কের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা সরাসরি অপরাধীর পরিচয় প্রকাশ করে। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, জিপিএস ট্র্যাকিং এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনি দিক থেকে, হেলাল উদ্দিনের পরিবারকে জানানো হয়েছে যে, তারা যদি কোনো সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করতে পারেন তবে তা পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এছাড়া, পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান এবং শোককালীন প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, গাজীপুর জেলা কৃষকদল সংস্থা সকল সদস্যকে সতর্কতা বজায় রাখতে এবং কোনো অনিরাপদ পরিস্থিতি হলে দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে আহ্বান জানায়। তারা জোর দিয়ে বলেন, কৃষক নেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব এবং এ ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণকে শূন্য সহনশীলতা দিয়ে মোকাবেলা করা হবে।
অবশেষে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হেলাল উদ্দিনের মৃত্যুর তদন্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনাটি কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় তুলে ধরেছে।



