রংপুর‑৩ (সদর) আসনের জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও নির্বাচনী প্রার্থী গুলাম মোহাম্মদ কাদের রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর নগরীর সুপারমার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত গণসংযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি ও আসন্ন গণভোটের ব্যাপারে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার কোনো বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় দেশের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করে একধরনের আধিপত্য গড়ে তুলতে চায়।
কাদেরের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো বাস্তবিক সংযোগ নেই; তারা কখনো দেশের পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেনি। এখন তারা বিদেশি ইশারার ভিত্তিতে দেশকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পথে ঠেলে দিতে চাচ্ছে, যা তিনি “স্বাধীনতা”র বদলে “গোলামি” বলে অভিহিত করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার যে ন্যায়বিচার দাবি করে তা বাস্তবে চরম অন্যায়ের সমতুল্য। দেশের পরিচিত অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, আর নিরীহ নাগরিকদের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় জেলে পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের নীতি সমাজে ব্যাপক অশান্তি ও দমন সৃষ্টি করছে।
কাদের আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্যায় ও অত্যাচার বাড়ছে এবং “ইনকিলাব”ের নামে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে দেশকে ধ্বংসের পথে ধাক্কা দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের বিরোধী হিসেবে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে এবং জনগণকে এখনই প্রস্তুত হতে হবে।
গণভোটের বিষয়েও তিনি স্পষ্ট অবস্থান নেন; একই দিনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে না, কারণ গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরই। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত গণভোটকে তিনি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন এবং ভবিষ্যতে এটিকে দেশদ্রোহিতার শামিল হিসেবে প্রমাণিত হবে বলে পূর্বাভাস দেন।
কাদেরের মতে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী রূপে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠীর পরিকল্পনা থেকে দেশকে রক্ষা করার একমাত্র উপায় হল গণভোটে “না” ভোট প্রদান করা। তিনি বলেন, তাদের প্রচারাভিযানকে জনগণ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং রংপুর বিভাগের প্রতিটি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের অবস্থান দৃঢ়।
অতীতের বিভিন্ন অন্যায় ও অত্যাচারের কারণে দেশের ঐতিহ্য রক্ষা করা কঠিন হয়েছে, তবে কাদের আশাবাদী যে যদি ভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সঠিকভাবে গণনা করা হয় এবং ফলাফল স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করা হয়, তবে জাতীয় পার্টি পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভোট ও আসন অর্জন করবে।
লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক কাঠামোর প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নারী ও পুরুষ উভয়ই একসাথে কাজ করে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের ধর্মকে আন্তরিকভাবে পালন করে। এই সমন্বয়ই দেশের ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিকতা বজায় রাখার মূল ভিত্তি।
কাদেরের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তার বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও গণভোটের বৈধতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সূচনা ঘটাতে পারে। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া ও ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে।
গণসংযোগে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে কাদেরের কথা শেষ হওয়ার পর, রংপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে সমর্থকদের সমাবেশ অব্যাহত থাকে এবং তারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে। রাজনৈতিক পরিবেশের এই উত্তেজনা আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে, তা দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে যায়।



