ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হল সরকারী ছুটির ঘোষণা, যা নির্বাচনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) রবিবার একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৫ জানুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে নির্বাহী আদেশে নির্বাচনের দুই দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত আইনগত ভিত্তি হল ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫, যা ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার অনুমতি দেয়। এই ধারার অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
ব্যাংক শাখা বন্ধের ফলে নগদ লেনদেনের প্রবাহে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হবে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগদ সংগ্রহ ও প্রদান পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান দৈনিক নগদ লেনদেনে নির্ভরশীল।
বাণিজ্যিক লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তিত হওয়ায় পেমেন্ট সিস্টেমে সাময়িক বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-ফিন্যান্সিয়াল সেবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে চলবে, কারণ সেগুলো ব্যাংক শাখার শারীরিক উপস্থিতির উপর নির্ভরশীল নয়।
বাজারে তরলতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) যারা নগদ প্রবাহের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্বে নগদ সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনের দুই দিন বন্ধের সময় কার্যক্রমে ব্যাঘাত না ঘটে।
বৃহৎ কর্পোরেট সেক্টরেও পেমেন্ট সাইকেল ও সাপ্লাই চেইনের সময়সূচি সমন্বয় করতে হবে। আন্তর্জাতিক লেনদেন ও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ব্যাংক শাখা বন্ধের ফলে স্বল্পমেয়াদে প্রক্রিয়াকরণ সময় বাড়তে পারে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে ত্রুটি পূরণ করতে পারে।
বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে এই দুই দিনের বন্ধের সরাসরি প্রভাব সীমিত, তবে দেশীয় শেয়ারবাজার ও মুদ্রা বাজারে অস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিনিয়োগকারীরা নির্বাচনের ফলাফল ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর দৃষ্টিপাত করে সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বন্ধের আগে সকল গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন সম্পন্ন করে গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, স্বয়ংক্রিয় টেলর মেশিন (এটিএম) ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা বন্ধের সময়েও চালু থাকবে, যাতে নগদ ও ডিজিটাল লেনদেনের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়।
নির্বাচনের পরপরই সব শাখা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসবে, এবং ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তহবিল সরবরাহের মাধ্যমে তরলতা পুনরুদ্ধার করবে। এই সময়কালে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে।
সংক্ষেপে, তফসিলি ব্যাংক বন্ধের ফলে নগদ লেনদেনে সাময়িক সীমাবদ্ধতা দেখা যাবে, তবে ডিজিটাল পেমেন্ট ও অনলাইন সেবা চালু থাকবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ব পরিকল্পনা করে ঝুঁকি কমাতে হবে, আর আর্থিক বাজারের স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতা নজরে রাখবে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আর্থিক সিস্টেম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।



