বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোটি ২০২৬ সালের আইসিসি মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে সাত উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। মুলপানিতে অনুষ্ঠিত এই জয় দলকে সুপার সিক্স পর্যায়ের শীর্ষে রাখে এবং পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি ম্যাচ জয় করে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থায় শেষ করতে সহায়তা করে।
জোটি ম্যাচের পর প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় জোর দিয়ে বললেন, টুর্নামেন্টে অগ্রসর হওয়ার পর এখনই মূল বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য টি২০ বিশ্বকাপের আগে কীভাবে আরও ভাল পারফরম্যান্স দিতে পারি, তা নির্ধারণ করা। প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ক্যাপ্টেনের মতে, পূর্বের টুর্নামেন্টে দল পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ পায়নি, ফলে প্রস্তুতির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বকাপের আগে কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চাই, কারণ পূর্বের টুর্নামেন্টে আমরা যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিতে পারিনি।”
জোটি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অংশগ্রহণই যথেষ্ট নয়; দলকে ম্যাচ জিততে হবে এবং দেশের জন্য প্রভাবশালী টি২০ বিশ্বকাপ তৈরি করতে হবে। তিনি যোগ করেন, “আমরা সেখানে শুধু অংশ নিতে চাই না, জয় অর্জন করে দেশের গর্ব বাড়াতে চাই।”
প্রস্তুতির জন্য তিনি আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টি২০ লিগের মতো প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। “যদি আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনো ভালো, প্রতিযোগিতামূলক টি২০ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারি, তা দলকে অনেক বাড়িয়ে তুলবে এবং প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে,” তিনি বলেন।
টিগ্রেসের এই জয় নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ছিল, যেখানে দলটি সাত উইকেটের ব্যবধানে জয়লাভ করে। এই ফলাফল টিমকে সুপার সিক্স পর্যায়ে শীর্ষে রাখে এবং টুর্নামেন্টের সব সাতটি ম্যাচে অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাখে, যা অন্য কোনো দল অর্জন করতে পারেনি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে জোটি দলের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের সমন্বয় প্রস্তাব করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি ধারাবাহিক এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তুতি ছাড়া আমরা বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারব না।”
গত বছর আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। শেষ কোয়ালিফায়ার ম্যাচটি ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার পর দলকে ধারাবাহিক ম্যাচের সুযোগ না পাওয়ায় প্রস্তুতিতে ফাঁক দেখা দেয়। এই অভিজ্ঞতা জোটি ও কোচিং স্টাফকে এখন আরও সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক শিডিউল গড়ে তোলার দিকে ধাবিত করেছে।
ক্যাপ্টেনের এই আহ্বান দেশের ক্রিকেট বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যাতে বিশ্বকাপের আগে টিমকে আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “যদি আমরা কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশ নিতে পারি, তা আমাদের গেমকে তীক্ষ্ণ করবে এবং বিশ্বকাপের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”
টিগ্রেসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী পারফরম্যান্স এবং জোটি’র প্রস্তুতি সম্পর্কিত মন্তব্যগুলো দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল দিক নির্দেশ করে। এখন দলকে কীভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ তৈরি করা যায় এবং বিশ্বকাপের আগে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।



