কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা‑মিঠামইন‑অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় তার মতামত প্রকাশ করেন।
সভা সমাবেশে তিনি প্রথমে জামাতের কার্যক্রমকে সমালোচনা করে, এটিকে “দুই নম্বর দল” এবং “ইসলামের নামের মুনাফেক দল” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই পৃথিবীতে একটামাত্র মুনাফেকের দল ইসলামের নাম বলে, তার নাম হইল জামাত।”
ফজলুর রহমানের মন্তব্যের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আমিরের পূর্ববর্তী বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়। তিনি উদ্ধৃত করে বলেন, “কাফের যদি ক্ষমতায় যায়, ইসলাম ফেরত আসতে পারে; কিন্তু জামাত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে আর ইসলাম ফেরত আসবে না।”
বক্তা ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের প্রত্যাশা প্রকাশ করে, তিনি বলেন, “যে কথাটা বাংলাদেশে সাহস করে কেউ বলে না, সেই কথাটা আমি সংসদে বলব।” তিনি সংসদে যাওয়ার অর্থকে “সত্য কথা বলার বাতি” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সর্বদা জ্বলবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের জনগণকে ভোটের অনুরোধ করে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে ভোট দিলে আপনারা গৌরবান্বিত হবেন।” হাওরাঞ্চলকে “সোনার সংসার” করতে চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তিনি স্থানীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বয়সের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি জানান, “আমার বয়স ৭৮ বছর, এটি আমার শেষ সীমা।” তিনি ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ৮০‑৮৫ বছর হতে পারে বলে উল্লেখ করে, এই শেষ জীবনে মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দিয়ে গৌরবান্বিত করার আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নাজমুল হাসান ভূঞা, ফজলুর রহমানের স্ত্রী ও জেলা বিএনপি সাবেক সহসভাপতি উম্মে কুলসুম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতারা। সকল উপস্থিতি একত্রে দলের কর্মসূচি ও ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ফজলুর রহমানের এই প্রকাশনা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে জামাতের প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি জোরদার করতে পারে এবং কিশোরগঞ্জ‑৪ আসনের নির্বাচনী গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তার বয়স ও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে ভিত্তি করে ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



