রবিবার দুপুর দুইটায় সিংহজানী হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর নিরাপত্তা গৃহ, চলাচল এবং কর্মস্থলে নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
শফিকুর রহমানের মতে, বাংলাদেশকে “ফুলের বাগান” রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে ধর্ম, দল বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে নয়, বরং দক্ষতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে কাজ বরাদ্দ করা হবে। তিনি এ কথা বলেন নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে, যা উপস্থিত ভোটার ও পার্টি কর্মীদের দৃষ্টিতে স্পষ্ট লক্ষ্য স্থাপন করে।
সভায় তিনি মায়েদের ওপর হিংসা বা অপমানের অভিযোগে সতর্কবার্তা দেন, এমন আচরণ সহ্য করা হবে না বলে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেন। শফিকুর রহমান মায়েদের আহ্বান করেন, ভোটকেন্দ্রে সাহসিকতার সঙ্গে গিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধী ব্যক্তিরা পিছু হটবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এরপর তিনি জামালপুরের পাঁচটি আসনে “ইনসাফের প্রতীক” হিসেবে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে ভোটের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট রয়েছে: প্রথমটি সংস্কারের পক্ষে “হ্যাঁ” ভোট, যা স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতীক, আর “না” ভোটকে তিনি দাসত্বের সমতুল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। শফিকুর রহমানের মতে, গণভোটের মাধ্যমে ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব।
সভায় উপস্থিত জামায়াত-এ-ইসলামির জেলা আমির মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য নাজমুল হক সাঈদী, মুজিবুর রহমান আজাদী ও সামিউল হক ফারুকী প্রভৃতি প্রার্থীরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে অংশগ্রহণ করেন। শফিকুর রহমান প্রত্যেক প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে তাদেরকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।
প্রতিপক্ষের কোনো দল বা ব্যক্তির কাছ থেকে এই অনুষ্ঠানে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, এবং এখন পর্যন্ত কোনো বিরোধী মন্তব্যের রেকর্ড নেই। তবে শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আলাপচারিতা অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা যায়।
শফিকুর রহমানের এই বক্তৃতা জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী কৌশলকে স্পষ্ট করে, যেখানে নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নারীর সমান ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে উপস্থিত ভোটার ও পার্টি কর্মীরা শফিকুর রহমানের বক্তব্যে সাড়া দিয়ে তালি দিয়ে সমর্থন জানায়। জামায়াত-এ-ইসলামি এই প্রচারণা চালিয়ে যাবে, এবং আসন্ন নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ও ভোটের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শফিকুর রহমানের এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নারীর অবস্থান ও ক্ষমতায়নের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে, যা পরবর্তী নির্বাচনী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



