বারিশালের বিভিন্ন পাড়া থেকে ভোটাররা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে তাদের মতামত ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। কারওয়ান বাজারে বসবাসকারী মো. জাহাঙ্গীর আলম, যিনি আগে ট্রাক চালাতেন এবং এখন ট্রাক মেরামতের কাজ করেন, বলেন তিনি নির্বাচনের আগে এলাকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরিকল্পনা করছেন। পূর্ববর্তী নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছেন, তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে শীঘ্রই ভোট দেওয়া সম্ভব হবে কি না এবং বর্তমান শাসনকালে শীখ হাসিনার নেতৃত্বে কি পরিবর্তন এসেছে। তিনি স্বৈরাচারী শীঘ্র হাসিনার অবসানকে উল্লেখ করে জিজ্ঞাসা করেন কেন এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে হিংসা ও হানাহানি চলছে।
মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, তিনি “হ্যাঁ” ভোট দেবেন কারণ তিনি মনে করেন দেশের আইন ও নীতিমালায় সংস্কার প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার গঠনের পর, যেসব দলগুলোর সংসদে অধিক সংখ্যক এমপি থাকে, তারা নিজেদের ইচ্ছামতো নীতি প্রয়োগ করে, যার ফলে বিদ্যুৎ মূল্য, জিনিসের দাম বৃদ্ধি এবং ঘুষের প্রভাব বাড়ছে। এসব সমস্যার সমাধান হলে তিনি বিশ্বাস করেন যে নির্বাচনের পর দেশের উন্নয়ন গতি পাবে।
প্রার্থী নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি প্রার্থীর কর্মকাণ্ড ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে ভোট দেবেন, তবে নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ না করে এই বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা এড়িয়ে চলতে চান। পরিবারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে বলে তিনি দেশের সামগ্রিক মঙ্গলের জন্য সকল দলকে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কারওয়ান বাজারের আরেকজন ভোটার, মো. জামাল, যিনি শিঙাড়া ও সমুচা বিক্রি করেন, তিনি বলেন যে তিনি এমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন যিনি দেশের জন্য সত্যিকারের কাজ করবেন এবং যাঁকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের আগে সবাই দেশের উন্নয়নের কথা বলে, তবে বাস্তবে তা পালন করা হয় কি না তা তিনি যাচাই করতে চান।
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ফুচকা বিক্রি করা সাইফুল ইসলাম, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবের পরিবেশ বর্ণনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীর দিকে মনোযোগ দেবেন। তিনি জোর দেন যে তিনি এমন প্রার্থীকে সমর্থন করবেন যিনি ভোটের পর গরিব জনগণের প্রতি বিশেষ নজর রাখবেন এবং তাদের সমস্যার সমাধানে সক্রিয় হবেন।
শরীয়তপুরে ভোট দিতে ইচ্ছুক সাইফুল ইসলাম, যিনি পশ্চিম রাজাবাজারে বসবাস করেন, তিনি উল্লেখ করেন যে পূর্বের এমপি গুলো এলাকার মানুষের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা বা দামের হ্রাস নিয়ে আসেনি, ফলে তিনি এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার এলাকায় প্রধান সমস্যাটি গ্যাসের অভাব, যা দৈনন্দিন জীবনে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
এই ভোটারদের মতামত থেকে স্পষ্ট যে, বারিশালের সাধারণ মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে নীতি পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি মোকাবেলায় প্রত্যাশা রাখে। তারা আশা করে যে নতুন সংসদ গঠন হলে সরকারী নীতি গুলো সাধারণ মানুষের মঙ্গলে কেন্দ্রীভূত হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।
নির্বাচনের ফলাফল যদি এই ধরনের প্রত্যাশা পূরণ করে, তবে বারিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোটারদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হন, তবে ভবিষ্যতে জনমত বিরোধ ও প্রতিবাদ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করতে পারে। বর্তমান সময়ে ভোটারদের এই সরল ও বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



