বৈদেশিক কর্মীরা জানুয়ারি মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছেন। এই মাসে মোট $৩.১৭ বিলিয়ন রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছে, যা একই সময়ের গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রেমিট্যান্সের এই উত্থান দেশের মুদ্রা বাজার ও পেমেন্ট ব্যালান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈদেশিক কর্মীদের এই অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহের পেছনে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলায় প্রার্থীর আত্মীয়স্বজনরা প্রচারমূলক খরচ মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই ধরনের নির্বাচনী ব্যয় রেমিট্যান্সের চাহিদা বাড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। রমজান, যা দেশের অধিকাংশ মুসলিম নাগরিকের জন্য উপবাসের পবিত্র মাস, নির্বাচনের কয়েক দিন পরই শুরু হবে। ঐতিহ্যগতভাবে, এই সময়ে বৈদেশিক কর্মীরা পরিবারকে খাবার, জামা-কাপড় ও অন্যান্য মৌলিক সামগ্রী সরবরাহের জন্য বেশি অর্থ পাঠান।
তাছাড়া, ব্যাংকিং সেক্টরের কাঠামোগত পরিবর্তনও রেমিট্যান্সের প্রবাহে প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ অভিবাসী কর্মী আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করছেন, ফলে অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিক রেমিট্যান্স পথের ব্যবহার কমে গেছে। বিশেষ করে আগস্ট ২০২৪-এ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এই প্রবণতা তীব্রতর হয়েছে।
বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই‑জানুয়ারি) রেমিট্যান্সের মোট প্রবাহ $১৯.৪৪ বিলিয়ন হয়েছে, যা পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের একই সময়ে $১৫.৯৬ বিলিয়নের তুলনায় ২১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়তা করে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে রেমিট্যান্সের এই উত্থান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লিকুইডিটি বাড়ায়, ফলে ঋণ প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গৃহস্থালী ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে, যা স্থানীয় উৎপাদন ও রিটেইল সেক্টরের বিক্রয়কে ত্বরান্বিত করে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নির্বাচনের পর রেমিট্যান্সের প্রবাহ সাময়িকভাবে কমতে পারে, তবে রমজান ও ঈদ-উল-ফিতরের সময় আবার বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা এবং রেমিট্যান্সের উপর নিয়ন্ত্রক নীতির পরিবর্তন ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, জানুয়ারিতে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা উভয়ই সমর্থন করেছে। তবে রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতা ও পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নীতিনির্ধারকদের সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি।



