রবিবার, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান ত্রিশাল, ময়মনসিংহে বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তি শিলা স্থাপন করেন। এই অনুষ্ঠান দেশের বহু‑ক্রীড়া শাখার জন্য একক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
কমপ্লেক্সটি ১৭৩.২ একর জমিতে নির্মিত হবে, যা বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবহারাধীন। পরিকল্পনায় ৩৩টি ভিন্ন ক্রীড়া শাখার জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত, এবং মোট ব্যয় টাকার ৩৫,০০০ কোটি থেকে ৩৮,০০০ কোটি পর্যন্ত অনুমান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন বহু বছর ধরে আধুনিক জিম, সুইমিং পুল, ক্রীড়াবিদদের আবাসন এবং প্রশিক্ষণ সরঞ্জামের অভাবকে প্রধান বাধা হিসেবে তুলে ধরেছে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ হাবের প্রয়োজনীয়তা বারবার জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের পূর্বে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছিল, যেখানে পান্ডা নদীর তীরে মুনশিগঞ্জে কমপ্লেক্সের স্থাপনার কথা ভাবা হয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি এবং কয়েক বছর পরই তা বাতিল হয়। গত বছর জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামানের হস্তক্ষেপের ফলে প্রকল্পটি পুনরায় চালু হয় এবং ত্রিশালকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অতীত ও বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্যরা ত্রিশাল সাইটে একাধিকবার পরিদর্শন করেন। সব পরিদর্শনের পর একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানটি প্রকল্পের জন্য সর্বোত্তম।
ভিত্তি শিলার অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কলোনেল এম কুতুবুদ্দিন মাস্টার প্ল্যান উপস্থাপন করেন। পরিকল্পনায় তিনটি ইনডোর ভেন্যু, ছয়টি আউটডোর ফিল্ড, একটি মিডিয়া সেন্টার, ক্রীড়াবিদদের জন্য আবাসিক ব্লক, পর্যাপ্ত পার্কিং এলাকা এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তবে জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান এবং বোয়া সভাপতি এই ক্রীড়া শাখার প্রতি আগ্রহ প্রকাশের পর ভবিষ্যতে মাস্টার প্ল্যানে ক্রিকেটের সুবিধা যুক্ত করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।
জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিক মানের একটি ভেন্যু হবে, যা এশিয়ান গেমসসহ বড় ইভেন্ট আয়োজনের সক্ষমতা রাখবে।” তিনি আরও বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, আর মাত্র তহবিলের ঘাটতি পূরণ করা বাকি।
এজন্য তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে তহবিল বরাদ্দের অনুরোধ জানান এবং যোগ করেন যে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি থেকে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এই ভিত্তি শিলার কাজ দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একবার সম্পন্ন হলে, দেশের শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্স বাড়বে।
প্রকল্পটি কয়েক ধাপে বাস্তবায়িত হবে বলে জানা গেছে। প্রথম ধাপে ইনডোর ভেন্যু এবং মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য। পরবর্তী ধাপে আউটডোর ফিল্ড, মিডিয়া সেন্টার এবং আবাসিক ইউনিটের কাজ চালু হবে।
সম্পূর্ণ কমপ্লেক্সের উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই সময়সীমা মেনে চললে, দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের অলিম্পিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী যে, এই কমপ্লেক্সের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াবিদরা বিদেশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওপর নির্ভর না করে নিজ দেশে উচ্চমানের প্রশিক্ষণ পাবে। এছাড়া, স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ত্রিশালে ভিত্তি শিলার কাজ সম্পন্ন হওয়া বাংলাদেশকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে অগ্রসর করেছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের জন্য দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে।



