চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভার সমাপ্তির পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী সময়ে কোনো ধরণের অসুবিধা দেখা যাবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি “ভালো”।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমানে নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতা মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে ঘটছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমস্যাগুলো সমাধান না হলে নির্বাচনী পরিবেশে অশান্তি বাড়তে পারে, তবে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত নেই।
বছরের শেষের দিকে এবং জানুয়ারি মাসে সংঘটিত নির্বাচনী সহিংসতার তথ্য মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) থেকে প্রকাশিত হয়েছে। জানুয়ারিতে মোট ৬৪টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে চারজনের মৃত্যু এবং ৫০৯ জনের আহত হওয়া রিপোর্ট করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে সাতটি ঘটনা রেকর্ডে একজনের প্রাণহানি এবং ২৭ জনের আঘাত উল্লেখ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচন খুবই সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে” এবং উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ফোর্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের সমুদ্র, সমতলভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে যথাযথভাবে সেনাবাহিনী, নেভি, কোস্টগার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি, এয়ারফোর্সের হেলিকপ্টারগুলোকে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রাখা হয়েছে যাতে দরকারি সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “যে জায়গায় যেরকম পরিস্থিতি, ওইভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছে” এবং এ সব ব্যবস্থা নির্বাচনী সময়ের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” শব্দটি পুরনো হলেও সরকার তা নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি যোগ করেন, “ইলেকশনটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে” এবং সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ঘন ঘন শোনা যাচ্ছে। তবে উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সংঘর্ষের মূল কারণ দলীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যায় নিহিত এবং তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করা উচিত নয়।
উপদেষ্টা জনগণকে সহিংসতা বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ভোটদান নিশ্চিত করতে প্রত্যেকের দায়িত্ব পালন করা জরুরি। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখা একত্রে সমন্বয় করে নির্বাচনী দিনগুলোকে নিরাপদ রাখতে কাজ করবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি করেন। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা নিরাপত্তা পরিকল্পনা, জরুরি সেবা ও ভোটার সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করেন।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মতে, নির্বাচনের সময়ে কোনো ধরণের অশান্তি বা অব্যবস্থা দেখা দিলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে”।
এছাড়া, নির্বাচনের পূর্বে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালু করা হবে। উপদেষ্টা বলেন, “সচেতন ভোটারই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে” এবং এ উদ্দেশ্যে সরকার বিভিন্ন স্তরে তথ্য প্রচার করবে।
সর্বশেষে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিশ্চিত করেন যে, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান করা হবে।



