২২ বছর বয়সী স্প্যানিশ টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ রবিবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চূড়ান্ত ম্যাচে নোভাক জোকারভিচকে পরাজিত করে ইতিহাস রচনা করেন। রড লেভার অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই বিজয় তাকে সর্বকালের সবচেয়ে কম বয়সে চারটি প্রধান টুর্নামেন্ট জয় করার শিরোপা এনে দেয়।
এই সাফল্য তাকে রাফায়েল নাদালের পূর্বের রেকর্ডের উপরে তুলে দেয়, যিনি ২৪ বছর বয়সে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম সম্পন্ন করেছিলেন। আলকারাজের এই নতুন মাইলফলক টেনিস জগতে এক নতুন যুগের সূচনা নির্দেশ করে।
আলকারাজ নাদাল ও জোকারভিচের প্রতি গভীর সম্মান প্রকাশ করেন, তবে তার শৈশবের আদর্শ ছিলেন রজার ফেডারার। তিনি একবার বলেছিলেন, ফেডারারের খেলা যেন এক শিল্পকর্ম, যার সৌন্দর্য ও শৈলী তাকে মুগ্ধ করেছে। এই অনুভূতি তার নিজস্ব খেলার শৈলীতে প্রতিফলিত হয়েছে।
দৌড়, রেঞ্জ, কৌশলগত নমনীয়তা এবং স্টাইলের দিক থেকে আলকারাজের গুণাবলি ফেডারারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তার আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে আধুনিক টেনিসের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র করে তুলেছে।
স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ছোট শহর এল পালমার থেকে উঠে আসা আলকারাজের যাত্রা চমকপ্রদ। ছোট শহরের প্রশিক্ষণ মাঠে শুরু হওয়া তার ক্যারিয়ার এখন বিশ্ব টেনিসের শীর্ষে অবস্থান করছে।
২০২২ সালে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ক্লে কোর্টের টুর্নামেন্টে আলকারাজ একক দিনে রাফায়েল নাদাল এবং নোভাক জোকারভিচ উভয়কে পরাজিত করে অনন্য সাফল্য অর্জন করেন। একই ইভেন্টে ধারাবাহিক দুই দিনের জয় তাকে ঐতিহাসিক রেকর্ডের তালিকায় যুক্ত করে।
একই বছর, আলকারাজ প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অর্জন করেন ইউএস ওপেনে, যা তাকে ২০০৫ সালের ফরাসি ওপেনে নাদালের পর সর্বকালের সবচেয়ে কম বয়সে পুরুষদের প্রধান টুর্নামেন্ট জয়কারী করে তুলেছিল। এই বিজয় তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়িয়ে দেয়।
তার পরবর্তী সাফল্য ছিল বিশ্ব নম্বর একের শীর্ষে ওঠা, যেখানে তিনি সর্বকালের সবচেয়ে কম বয়সে এই পদে অধিষ্ঠিত হন। এই শিরোপা তার ধারাবাহিক উন্নতি এবং দৃঢ় মানসিকতার প্রমাণ।
২০২৪ সালে রোলাঁ গারোস জয় করে আলকারাজ ক্লে, ঘাস এবং হার্ড কোর্টে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়কারী সর্বকালের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়ের তালিকায় নিজেকে যুক্ত করেন। এই বহুমুখী সাফল্য তার বহুমুখী দক্ষতা ও অভিযোজন ক্ষমতা তুলে ধরে।
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে আলকারাজ অ্যালেক্সান্ডার জভারেভের সঙ্গে কঠিন লড়াই করেন। পঞ্চম সেটে ৩-৫ তে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি পেশী সংকোচন সত্ত্বেও হাল ছাড়েন না এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জয় করেন। তিনি একবার বলেছিলেন, তিনি কখনো হাল ছাড়তে চান না এবং আত্মসমর্পণকে ঘৃণা করেন।
এই ধারাবাহিক সাফল্য এবং অটল মানসিকতা আলকারাজকে টেনিসের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তার পরবর্তী প্রতিযোগিতা ও শিডিউল এখনও নির্ধারিত, তবে তার বর্তমান রূপে তিনি ইতিমধ্যে টেনিসের ইতিহাসে অম্লান ছাপ রেখে গেছেন।



