ময়মনসিংহ শহরের সম্মেলন কক্ষে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি সহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট‑২০২৬ এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ পরিদর্শন করেন এবং নির্বাচনের সময় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণকে অগ্রাধিকার দেন।
পরিদর্শনের সময় জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও অসামরিক প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। উপস্থিতিতে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, ১৯ তম পাদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মহাপরিচালক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ময়মনসিংহ বিভাগের কমিশনার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মিটিংয়ে আসন্ন নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকর সমন্বয় ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সেনাবাহিনী প্রধান বিশেষভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, তথ্য শেয়ারিং এবং জরুরি অবস্থায় সামরিক সহায়তার ভূমিকা সম্পর্কে জোর দেন।
পরিদর্শনের সময় জেনারেল ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ (In Aid to the Civil Power) এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনা সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যে, নির্বাচনের সময় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা স্বল্প সময়ে, স্বচ্ছভাবে এবং আইনগত সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই নির্দেশনা নির্বাচনের পূর্বে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরিদর্শনের পর জেনারেল ত্রিশালে অবস্থিত অলিম্পিক ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ঘোষিত হয় এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। একই সময়ে তিনি অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মিটিং-এ অংশ নেন, যেখানে ক্রীড়া নীতি, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
মিটিংয়ে উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ময়মনসিংহ বিভাগের কমিশনার, অসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যা পরিদর্শনের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করে।
বিপুল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধী দলের নেতারা পূর্বে নির্বাচনের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, সেনাবাহিনীর এই ধরনের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পেশাদারিত্বের ওপর জোর দেওয়া নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে তারা একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে চায় যে সামরিক সহায়তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বায়ত্তশাসনকে প্রভাবিত না করে।
এই পরিদর্শন এবং ঘোষিত উদ্যোগগুলো ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা কাঠামোকে দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে গৃহীত এই সমন্বিত পরিকল্পনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সমন্বয় এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর জোর, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার ভিত্তি স্থাপন করবে।
অবশেষে, জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান উল্লেখ করেন যে, সামরিক বাহিনী নির্বাচনের সময় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে। তার এই মন্তব্য ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নের সংকেত দেয় এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা জোরদার করে।



