মেলবোর্নের রড লেভার আরেনায় রবিবার অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চূড়ান্ত ম্যাচে ক্যার্লোস আলকারাজ ২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫ স্কোরে নোভাক ডজিককে পরাজিত করে তার প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতেছে। ২২ বছর বয়সে তিনি ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম সম্পন্ন করে সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ খেলোয়াড়ের রেকর্ড স্থাপন করেন।
প্রথম সেটে ডজিক ৬-২ দিয়ে আধিপত্য দেখিয়ে দ্রুত এগিয়ে যায়, তবে আলকারাজের শক্তিশালী রিটার্ন এবং আক্রমণাত্মক খেলায় তিনি দ্রুতই সমতা রক্ষা করেন। দ্বিতীয় সেটে স্প্যানিশ তার সার্ভে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৬-২ দিয়ে সমতা ভেঙে দেয়, এবং তৃতীয় সেটে ৬-৩ স্কোরে তৃতীয় সেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
চতুর্থ সেটে দুজনই শক্তি সংরক্ষণে লড়াই করে, ডজিক একবার ডাবল ফল্টের পর ৪-১ লিড পায়, তবে আলকারাজের দৃঢ় রিটার্ন এবং ধারাবাহিক ব্রেক পয়েন্টে তিনি সেটটি ৭-৫ স্কোরে জিতে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটায়। ম্যাচের মোট সময় প্রায় ৩ ঘন্টা, যেখানে উভয় খেলোয়াড়ই শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও উচ্চ স্তরের টেনিস উপস্থাপন করে।
এই জয় আলকারাজকে ওপেন যুগের সর্বকনিষ্ঠ চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী করে তুলেছে; তিনি রাফেল নাদালের চেয়েও কম বয়সে এই মাইলফলক অর্জন করেছেন, যিনি একই অর্জনে দুই বছর বেশি বয়সী ছিলেন। নাদালও ম্যাচের দর্শকসভার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যা এই মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।
সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা নিয়ে আলকারাজ এখন জঁ ম্যাকএনরো এবং ম্যাটস উইল্যান্ডারের সমান স্তরে পৌঁছেছেন, আর অ্যান্ড্রে আগাসি, জিমি কনরস এবং ইভান লেন্ডেলের চেয়ে মাত্র এক শিরোপা পিছিয়ে। তার ক্যারিয়ার গতি এই মুহূর্তে টেনিসের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ডজিকের জন্য এই পরাজয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি মেলবোর্নের ফাইনালে প্রথমবার হেরেছেন; পূর্বে তিনি দশটি ফাইনালই জয় করে আসছেন। তার ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অর্জনের স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি, যা অস্ট্রেলিয়ার লেজেন্ড মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডকে অতিক্রম করার লক্ষ্যে রয়েছে।
ডজিকের সর্বশেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা ২০২৩ সালের ইউএস ওপেন ছিল, এবং তার পর থেকে আলকারাজ ও জ্যানিক সিনার মধ্যে শিরোপা ভাগ হয়ে চলেছে। এই চূড়ান্ত ম্যাচে ডজিকের শক্তিশালী ফোরহ্যান্ড এবং সার্ভের গতি তাকে প্রথম সেটে আধিপত্য দিতে সাহায্য করলেও, আলকারাজের ধারাবাহিক রিটার্ন এবং শারীরিক সহনশীলতা শেষ পর্যন্ত তাকে বিজয়ী করে তুলেছে।
সেমিফাইনালে আলকারাজ অ্যালেক্সান্ডার জ্ভেরেভের সঙ্গে পাঁচ সেটের লম্বা লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, আর ডজিক জ্যানিক সিনার সঙ্গে সমানভাবে ক্লান্তিকর পাঁচ সেটের ম্যাচে জয়লাভ করেন। উভয় খেলোয়াড়ই দীর্ঘ গেমের পর পুনরুদ্ধার করে চূড়ান্ত ম্যাচে শক্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
ম্যাচের প্রথম গেমে ডজিকের ডাবল ফল্টের পরই আলকারাজের নেটে ফোরহ্যান্ডের মাধ্যমে প্রথম ব্রেক পয়েন্ট তৈরি হয়, তবে তিনি তা রক্ষা করতে পারেননি। ডজিক দ্রুতই তৃতীয় গেমে ব্রেক করে ৪-১ লিড নেয়, তবে আলকারাজের ধারাবাহিক রিটার্ন তাকে আবার গেমে ফিরিয়ে আনে।
দ্বিতীয় সেটে আলকারাজের সার্ভে ধারাবাহিকতা এবং রিটার্নের গতি ডজিকের রিদমকে ব্যাহত করে, ফলে তিনি দ্রুতই ৬-২ স্কোরে সেট জিতে নেন। তৃতীয় সেটে ডজিকের ফোরহ্যান্ডের সুনিপুণতা আবারও তাকে দু’টি সেট পয়েন্টে নিয়ে যায়, তবে আলকারাজের দৃঢ় প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণাত্মক রিটার্ন তাকে শেষ পর্যন্ত ৬-৩ স্কোরে সেট জিততে সাহায্য করে।
চতুর্থ সেটে দুজনই একে অপরের সেবা গেমে ধারাবাহিকভাবে ব্রেক পয়েন্ট তৈরি করেন, তবে আলকারাজের শেষ গেমে জয়ী হওয়া ব্রেক পয়েন্ট তাকে ৭-৫ স্কোরে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটাতে সক্ষম করে। এই জয় তাকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম শিরোপা এনে দেয় এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তার অবস্থানকে অটল করে দেয়।
আলকারাজের এই সাফল্য টেনিসের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তরুণ খেলোয়াড়রা শীর্ষ স্তরে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ডজিকের জন্য এখনো ২৫তম শিরোপা অর্জনের সুযোগ রয়েছে, এবং তিনি পরবর্তী মৌসুমে তার লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।



