রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভার পর একটি ব্রিফিংয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটের দিনে ইন্টারনেট সেবা চালু থাকবে বলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট করে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার কোনো প্রচেষ্টা সনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ইন্টারনেটের ব্যবহার সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা হলো ভোটের দিন পুরো দেশ জুড়ে নেটওয়ার্ক খোলা রাখা। কেউ যদি ইন্টারনেট বন্ধ করার চেষ্টা করে, আমরা তা অবিলম্বে আইনগতভাবে মোকাবেলা করব।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটের সময় তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা ও নাগরিকদের সংযোগ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী একত্রে নির্বাচনের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নির্বাচনকে “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” হিসেবে পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড শব্দটি পুরনো হলেও, এর মূল অর্থ হল সকল প্রার্থী ও ভোটারকে সমান সুযোগ প্রদান করা। কিছু ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার ভিন্ন হতে পারে, তবে আমাদের লক্ষ্য একই – নির্বাচনকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ করা।” এই মন্তব্যে তিনি নির্বাচনের ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তারা ইন্টারনেট সংযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে, ভোটের দিন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্যের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি সেবা দল গঠন করা হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, পূর্বে নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মতবিনিময় হয়েছে। তবে আজকের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার ভোটের দিন কোনো ধরনের সাইবার বন্ধের অনুমতি দেবে না এবং তা করা হলে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি হল, ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ইন্টারনেট বন্ধের ফলে তথ্যের ঘাটতি ও গুজবের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে না, তাই আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা রোধ করা হবে।
অধিকন্তু, উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্যে উল্লেখিত “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” ধারণা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো অননুমোদিত হস্তক্ষেপকে বাধা দেয়ার লক্ষ্যে গৃহীত নীতি নির্দেশ করে। এই নীতি অনুসরণে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ইন্টারনেট বন্ধের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তার আইনি পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তারা জানিয়ে দেন, ইন্টারনেট বন্ধের জন্য প্রযোজ্য আইনগত ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে জরিমানা, কারাদণ্ড বা উভয়ের সংমিশ্রণ হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ভোটের দিন নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানান। তারা ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সেবা ব্যাহত না হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করবেন।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো থেকে কোনো বিরোধী মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সকল দলই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটের দিনে ইন্টারনেট বন্ধের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং তা করা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে, নির্বাচনকে সমান সুযোগের ভিত্তিতে পরিচালনা করার জন্য “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নীতি অনুসরণ করা হবে, যা ভোটার ও প্রার্থীর অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



