বাংলাদেশের জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে জামাত‑ই‑ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান আজ জামালপুরের শিংহাজনী বহুমুখী হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা স্তরের র্যালিতে নির্বাচনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ভোট দেশের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তনের মূল মুহূর্ত হবে এবং ১,৪০০ শহীদদের ত্যাগের ওপর ভিত্তি করে গড়া এই নির্বাচন ‘আইনঘর’ নামে পরিচিত অন্ধকার যুগের সমাপ্তি ঘটাবে। শফিকুরের মতে, এই ভোট শহীদ পরিবারের কাঁদা শেষ করবে এবং অতীতের পচনশীল রাজনীতি শেষের দিকের দিকে ধাবিত হবে।
র্যালির আয়োজন জেলা জামাতের তরফ থেকে করা হয় এবং শফিকুরের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল দেশের ভবিষ্যৎ গঠন। তিনি বলেন, যদি জামাত সরকারে আসে তবে যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে, আর্থিক ভাতা নয়। যুবকরা বেতনভিত্তিক কাজের প্রত্যাশা করে, তাই সরকারী পদে অস্থায়ী ভাতা প্রদানকে ‘অবমাননা’ হিসেবে দেখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা যুবকদের বেকারত্ব ভাতা দিয়ে অপমান করব না; বরং কাজের সুযোগ তাদের হাতে দেব’।
শফিকুরের ভাষণে উল্লেখযোগ্য ছিল সাম্প্রতিক গণভোটের দিকে ইঙ্গিত। তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে স্বাধীনতার প্রতীক এবং ‘না’ ভোটকে দাসত্বের চিহ্ন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কিছু রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরাসরি কথা বলতে পারে না, তাই তারা গোপনীয়ভাবে সমর্থন প্রকাশ করে। তিনি সকলকে আহ্বান করেন, যদি ‘না’ ভোটের পক্ষে মত প্রকাশ করতে চান তবে তা স্পষ্টভাবে বলার জন্য।
২০২৪ সালের শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে শফিকুর বলেন, শহীদদের দেহ আমাদের কাঁধে, রক্ত আমাদের হাতে। এই ত্যাগকে কোনোভাবেই ব্যর্থ করা যাবে না, না হলে শহীদদের আত্মা নিন্দিত হবে। তিনি শহীদদের ত্যাগকে দেশের অগ্রগতির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে, তাদের স্মৃতিকে অমর রাখতে প্রতিজ্ঞা জানান।
জামাতের ক্ষমতার ধারণা সম্পর্কে শফিকুরের বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি বলেন, জামাত ক্ষমতা নিজের জন্য নয়, জনগণের জন্য চায়; দেশের ১৮ কোটি মানুষের সমর্থনই তাদের বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। ক্ষমতা কোনো ইচ্ছা নয়, বরং দায়িত্বের বোঝা, তাই নির্বাচিত হলে প্রার্থীরা প্রতি বছর তাদের সম্পদের বিবরণ জনগণের সামনে প্রকাশ করবে। এই স্বচ্ছতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশাবাদী।
মহিলাদের অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়েও শফিকুর স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ঘরোয়া, কর্মস্থল এবং চলাচলে মহিলাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষিত হবে। মহিলারা ন্যায়ের ভিত্তিতে সব কাজের অংশীদার হবে এবং তাদের যথাযথ অধিকার নিশ্চিত করা হবে। এই নীতি সমাজের সমগ্র উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে তিনি জোর দেন।
অলিগণিক গোষ্ঠীর প্রতি শফিকুরের মন্তব্যে বাংলাদেশকে ‘বাগান’ হিসেবে উপমা করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে সকল গোষ্ঠীর জন্য সমান পরিবেশ তৈরি করা হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করা দেশের সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় ঐক্য ও বহুত্ববাদকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কিছু রাজনৈতিক দল শফিকুরের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থনকে সূক্ষ্মভাবে সমালোচনা করেছে এবং তাদের রেটরিকে ‘গোপনীয়’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে শফিকুরের বক্তব্যে দেখা যায়, তিনি সরাসরি কোনো দলকে লক্ষ্য করে না, বরং সমগ্র দেশের স্বার্থে কথা বলেন। এই রূপে তার রেটরির স্বচ্ছতা এবং ন্যায়পরায়ণতা রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে। জামাতের ভোটাভুটি জয়ী হলে তাদের নীতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা, নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো যদি শফিকুরের রেটরিকে চ্যালেঞ্জ করে তবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে এবং ভোটারদের পছন্দের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই ভোটের সময়সূচি প্রকাশ করবে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী কোড মেনে চলতে হবে। শফিকুরের রেটরি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ ফলাফল নির্ধারণ করবে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন কিভাবে এগোবে তা সময়ই বলবে।



