সামাজিক মাধ্যমে 55 লাখ বিদেশি বাংলাদেশি পোস্টাল ভোট BD অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন করেছে বলে ছড়িয়ে পড়া দাবির বিপরীতে, বাস্তব সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। 13তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের জন্য এই অ্যাপের মাধ্যমে মোট কতজন ভোটার নিবন্ধিত এবং কতজন ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
ফেসবুক ভিডিও, রিল, পোস্ট এবং ইউটিউব শোর্টসের মাধ্যমে 55 লাখের অতিরঞ্জিত সংখ্যা প্রচারিত হয়েছিল। এই তথ্যের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর, ডেটা যাচাইয়ের জন্য একটি ফ্যাক্ট‑চেক দল কাজ শুরু করে।
ডিসমিসল্যাব পোস্টাল ভোটিং আপডেট বিভাগে গিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে। 31 জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টার সময় পর্যন্ত আপডেটেড ডেটা অনুসারে, দেশীয় ও বিদেশি উভয় ভোটারই মোট ১,৫৩৩,৬৮৪ জন পোস্টাল ভোট BD অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে।
এই নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৭০,৪৭৩ জন ভোট প্রদান করেছেন। অর্থাৎ মোট নিবন্ধিত ভোটারের প্রায় তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে তাদের ভোট চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
প্রচলিত দাবির তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা ভোটার নিবন্ধনের প্রকৃত পরিসরকে স্পষ্ট করে। অতএব, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতিরঞ্জিত তথ্যের ফলে ভোটার অংশগ্রহণের বাস্তব চিত্র বিকৃত হতে পারে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ভোটারদের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করছে। তবে, সঠিক তথ্যের অভাব ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
আসন্ন 13তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের প্রস্তুতি চলাকালে, ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং মিথ্যা দাবির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ এবং সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোকে এই ধরনের ভুল তথ্যের দ্রুত সনাক্তকরণ ও সংশোধনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, পোস্টাল ভোট BD অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১,৫৩৩,৬৮৪ ভোটার নিবন্ধিত এবং ৪৭০,৪৭৩ ভোটদান সম্পন্ন হয়েছে। এই তথ্য ভবিষ্যতে ভোটার অংশগ্রহণের প্রকৃত মাত্রা নিরূপণে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



