বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (ডুডক) এ দাখিল অভিযোগের তদন্তের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি অভিযোগের মূল বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে, প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের ব্যাখ্যা নেয়ার দায়িত্বে থাকবে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন নিযুক্ত করা হয়েছে, আর সদস্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তা নিজামূল কবীরকে সহায়ক হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। উভয় সদস্যই তথ্য ও সম্প্রচার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, যা তদন্তের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিটির কাজের মূল উদ্দেশ্য হল ডুডকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে, আবু সুফিয়ান নামের এক নাগরিকের দৃষ্টান্তে, সরকারি সম্পদ লুটপাট, নিলাম ও দরপত্র বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ এবং বদলি বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করা এবং একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা।
অভিযোগের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২২ সালে বেতারের গোপালগঞ্জ ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে অনুষ্ঠান, বার্তা ও প্রকৌশল বিভাগে মোট ৪৬ জনকে অনিয়মিত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ করা হয়। এই চুক্তিগুলোতে নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ সাধনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সেই সময়ে বার্তা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যিনি তখন এডিজি এবং বর্তমানে ডিজি) এ এস এম জাহিদ ও তার সহযোগীরা, চুক্তিভুক্ত প্রতিটি অনিয়মিত শিল্পীর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ পাঁচ থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায়, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে, কমিটি সংশ্লিষ্ট আর্থিক রেকর্ড, চুক্তিপত্র এবং লেনদেনের নথিপত্র বিশ্লেষণ করবে। এছাড়া, চুক্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা সংগ্রহের মাধ্যমে প্রমাণের দৃঢ়তা যাচাই করা হবে।
রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এ এস এম জাহিদ স্ট্রিমের মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই বিষয় নিয়ে তিনি বর্তমানে কোনো মন্তব্য করবেন না। তার এই মন্তব্য তদন্তের চলমান অবস্থাকে আরও জটিল করে তুললেও, কমিটি তার বক্তব্যকে নথিভুক্ত করে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তা বিশ্লেষণ করবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (ডুডক) আইনগত ক্ষমতা অনুসারে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আইনি প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব। মন্ত্রণালয়ের স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তের ফলাফল ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শাসনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমিটি কাজ শেষ করার পর, প্রস্তুত করা প্রতিবেদন ডুডক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে জমা হবে। এই প্রতিবেদনটি পরবর্তী আইনি বা শাসনীয় প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেবে।
এ পর্যন্ত তদন্তের সময়সীমা ও পরবর্তী আদালতিক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে মন্ত্রণালয় ও ডুডক উভয়ই দ্রুত ফলাফল জানাতে এবং প্রয়োজনীয় শাসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



