25 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রধান উপদেষ্টা বললেন, নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক, ইউরোপীয় বাণিজ্য চুক্তি জরুরি

প্রধান উপদেষ্টা বললেন, নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক, ইউরোপীয় বাণিজ্য চুক্তি জরুরি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রবিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ‑ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের মসৃণতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণভোটের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণ বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের রফতানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ইইউ বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের নুরিয়া লোপেজও এ বিষয়ে সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্যাটেগরিতে বাংলাদেশ যদি এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ না পায়, তবে ইইউ বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই এফটিএ নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ৭,৩০০‑এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ইউনূস এ সুযোগকে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনার দরজা হিসেবে উল্লেখ করে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের রপ্তানি পণ্যের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এফটিএ স্বাক্ষর হলে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে।

নুরিয়া লোপেজের মতে, এফটিএ স্বাক্ষর হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করার পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এ ধরনের চুক্তির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে।

ভারত ও ভিয়েতনামের উদাহরণে দেখা যায়, মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তারা ইউরোপীয় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তুলেছে। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে রপ্তানি ভিত্তিক শিল্পখাতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই স্বীকার করেন, সুষ্ঠু ও ন্যায্য নির্বাচন দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম বৃদ্ধি করবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা ত্বরান্বিত হলে, বাংলাদেশ সরকারকে শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও রপ্তানি প্রবাহ বজায় রাখতে নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য আইনগত প্রণালীর সমন্বয়, কাস্টমস প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উৎপাদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের মতে, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক হওয়ায় সরকার বাণিজ্য নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শীঘ্রই এফটিএ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হবে এবং তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এই বৈঠকের ফলাফল ভবিষ্যতে বাংলাদেশ‑ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের গতি নির্ধারণ করবে এবং দেশের রপ্তানি কাঠামোকে বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। একই সঙ্গে, সুষ্ঠু নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments