চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই উপজেলা, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ গ্রামাঞ্চলের ধার পাড়া এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও জমিতে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাগুলি ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে এবং মোট ছয় থেকে সাতটি অগ্নিকাণ্ডের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ উভয়ই ঘটনাগুলিকে অগ্নিসংযোগ (আরাসন) হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
মিরসরাই থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ ফারিদা ইয়াসমিন জানান, পুলিশ তথ্য পাওয়ার পর现场ে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং এখনো দায়ী ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট হয়নি। সর্বশেষ অগ্নিকাণ্ডটি ২৯ জানুয়ারি দুপুরে মৃদুল নামের এক বাসিন্দার বাড়ির বাঁশের বেড়া জ্বলে গিয়েছিল, যার ফলে পোশাক ও হ্যাঙ্গার নষ্ট হয়েছে। ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়ায়নি, পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল ধরের মতে, প্রথম অগ্নিকাণ্ডটি ২৩ জানুয়ারি ঘটেছে, যখন পরিবারিক মন্দিরের পাশে শুকনো পাতা ও গাছের ডালপালা দিয়ে তৈরি থলে জ্বলে গিয়েছিল। এতে মন্দিরের সোলার ব্যাটারি ও সংরক্ষিত কিছু পোশাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরের দিন, একই এলাকায় আমিয়া ধরের বাড়ির গবাদি পশুর জন্য সংরক্ষিত ঘাসের গুঁড়িতে অগ্নিকাণ্ড দেখা দেয়।
রাহুল ধর আরও জানান, ২৯ জানুয়ারি দুপুরে মৃদুলের বাড়ির বাঁশের বেড়া জ্বলে গিয়ে পোশাক ও হ্যাঙ্গার নষ্ট হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সব ঘটনার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে এবং পুরো সম্প্রদায় ভয়ে বসে আছে। এদিকে, কিছু বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়।
অতিরিক্তভাবে, কানু নাথ ও অনুপ ধরের বাড়ির কাছাকাছি কিছু অগ্নিকাণ্ডের রিপোর্টও পাওয়া গেছে, যদিও সেসবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় পুলিশ দুইটি প্রধান অগ্নিকাণ্ড নিশ্চিত করেছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
মিরসরাই থানা সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আশ্বাস দিয়েছে যে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় প্রশাসন অগ্নি প্রতিরোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি পদার্থ বাড়ির কাছাকাছি সংরক্ষণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই সিরিজের অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরা ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে। সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত।



