25 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি ছাত্রদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে বিরোধিতা, কমিশনকে সতর্কতা

বিএনপি ছাত্রদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে বিরোধিতা, কমিশনকে সতর্কতা

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ১ ফেব্রুয়ারি রোববার নির্বাচনী ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে ছাত্রদের নির্বাচন‑সংক্রান্ত কাজ থেকে বাদ রাখার দাবি তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অল্পবয়সী ছাত্রদের যুক্ত করা উপযুক্ত নয়।

বৈঠকের পরে প্রকাশিত বিবৃতিতে নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ছাত্রদের অংশগ্রহণে তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনে উল্লেখিত ব্যক্তিদেরই নির্বাচনী কাজে অংশ নেওয়া উচিত, অন্য কোনো গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

কমিটির সদস্য স্কাউটদেরও নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান। কমিশন এই যুক্তির যৌক্তিকতা স্বীকার করে, বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একই সঙ্গে, তিনি শান্তি কমিটি গঠনের গুজবের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করেন, কারণ নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের অনুমোদন দেয়নি।

নজরুল ইসলাম খান আরও উল্লেখ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার বাইরে অন্য অঞ্চলে কাজ করছেন। যদিও আইনগত বাধা নেই, তিনি বলছেন, বিশৃঙ্খলা রোধে ভোটের কমপক্ষে দুই দিন আগে বহিরাগত কর্মীদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপস্থিতি সীমিত করা উচিত। কমিশন এই বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বিএনপি প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৫৫ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে অপরিচিত প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত। তারা দাবি করেন, পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব কেবলমাত্র সক্ষম প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদেরই দেওয়া উচিত, যাতে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত উপস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা না সৃষ্টি করে।

বিএনপি দল অতিরিক্ত তথ্য জানিয়েছে, গত এক থেকে এক-and-a-half বছর ধরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন ঘটেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এই সংখ্যা ২-৩ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে জানিয়েছে, তবে দল এই পার্থক্যকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।

বিএনপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় পক্ষই নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। ছাত্র ও স্কাউটদের অংশগ্রহণ সীমিত করা, বহিরাগত কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষক নিয়োগে মানদণ্ড স্থাপন ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ছাত্র ও স্কাউটদের অংশগ্রহণে সীমা আরোপ করা হয়, তবে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের গতিবিধি ও ভোটার সংযোগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, পর্যবেক্ষক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা নিশ্চিত করলে ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি এবং নির্বাচন কমিশনের এই সমন্বিত আলোচনার ফলাফল পরবর্তী নির্বাচনী ধাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে ভোটার মাইগ্রেশন ও বহিরাগত কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে। উভয় পক্ষের সমঝোতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার দিকে লক্ষ্য রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments