বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে নির্বাচনী বিষয় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে উল্লেখ করেন, ঢাকা মহানগর ও দেশের কিছু নির্দিষ্ট আসনে ভোটার মাইগ্রেশন ঘটেছে।
বিএনপি কর্মকর্তার মতে, এই স্থানান্তরগুলো নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা অবৈধ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বিশেষ করে ঢাকা শহরের কিছু এলাকা ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
বৈঠকটি নির্বাচনী ভবনে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো আলোচনা করা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় নজরুল ইসলাম খান তার অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরেন।
বিএনপি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। এই তিনজনের উপস্থিতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ভোটার স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার নীতির বিরুদ্ধে যায়। তিনি বলেন, এই ধরনের মাইগ্রেশন নির্বাচনের মৌলিক ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে।
বিএনপি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা নির্দিষ্ট পার্টির প্রান্তিক সুবিধা দিতে পারে। তিনি এ বিষয়ে সিইসির দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে উভয় পক্ষের মতামত শোনা হয়। যদিও সিইসির পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন বলে অনুমান করা যায়।
ভোটার মাইগ্রেশন সংক্রান্ত অভিযোগ বাংলাদেশে পূর্বে বহুবার উঠে এসেছে। বিভিন্ন নির্বাচন চক্রে বিরোধী দলগুলো একই রকম অভিযোগ তুলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ভোটার তালিকার সঠিকতা ও স্থানান্তরের বৈধতা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনী ফলাফলে বিতর্কের সম্ভাবনা বাড়বে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিএনপি এই বিষয়টি তুলে ধরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সাধারণত এমন অভিযোগের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করে এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়।
বাংলাদেশের নির্বাচন আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় কোনো পরিবর্তন হলে তা যথাযথ প্রমাণ ও অনুমোদনের মাধ্যমে করা আবশ্যক। অননুমোদিত স্থানান্তর আইনগতভাবে অবৈধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিএনপি দল এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিইসির কাছে দ্রুত তদন্তের আবেদন জানাবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তের ফলাফল যদি ভোটার তালিকায় অনিয়ম প্রকাশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে।
নির্বাচনী কমিশন ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করেছে। এই দলটি স্থানান্তরিত ভোটারদের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করবে বলে জানানো হয়েছে।
জনসাধারণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। কিছু নাগরিক ভোটার তালিকায় পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে কিছু লোক এই অভিযোগকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত বিষয়গুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। যদি যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে তা নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিএনপি কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে এই বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও সমাধান চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তারা দাবি করেন, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা যাবে না।
নির্বাচনী কমিশনের দৃষ্টিকোণ থেকে, সকল পক্ষের অভিযোগকে ন্যায়সঙ্গতভাবে বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
অবশেষে, ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত এই অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন এক আলোচনার সূচনা করেছে। নির্বাচনের পূর্বে এই বিষয়টি সমাধান হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে।



