আজ দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সদস্যরা জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর শফিকুর রহমানের কাজকর্মের ওপর নারীদের অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে প্রতিবাদে সমবেত হয়। শফিকুরের এক্স (পূর্বে টুইটার) পোস্টে কর্মরত নারীদেরকে ‘বেশ্যা’ বলে অভিযুক্ত করার অভিযোগ উঠে, যা শিক্ষাপ্রাঙ্গণে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
প্রতিবাদীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যাফেটেরিয়া থেকে রওনা হয়ে আর্টস বিল্ডিং, রাজু ভাস্কর্য এবং ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদ অতিক্রম করে অবশেষে অপরাজেয় বাংলা ভাস্করের পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ করে। এই পথে তারা স্লোগান ও নাড়ি দিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে।
সমাবেশে বক্তারা শফিকুরের মন্তব্যের জন্য জনসাধারণিক ক্ষমা চেয়েছেন এবং নারীদের মর্যাদা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা “নারীকে বশিষ্ঠা নয়, শফিকুর ক্ষমা চাই” এবং “আপনি নারীদেরকে বশিষ্ঠা বলে ডেকেছেন, এখন আইডি হ্যাকের দোষারোপ করছেন” সহ বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করে। এছাড়া “অপহরণকারীর কালো হাত ভাঙুন” ও “রাজাকারদের কালো হাত ভাঙুন” শ্লোগানও শোনা যায়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যৌথ সচিব সায়েরা চন্দ্রা চাকমা বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মরত নারীদেরকে ‘বেশ্যা’ বলে বিবেচনা করে এবং চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দল নারীদের সমান অধিকার স্বীকার করে না, বরং তাদেরকে সেবক হিসেবে দেখায়।
কেন্দ্রীয় যৌথ সাধারণ সম্পাদক মনসুরা আলম যোগ করেন, দেশের ভোটারসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারীর অংশগ্রহণ থাকা সত্ত্বেও জামায়াত-এ-ইসলামি নারীদেরকে ‘বেশ্যা’ বলে অবমাননা করে এবং তবু রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার অধিকার দাবি করে। তিনি এ বিষয়টি নারীর সমান অংশগ্রহণের নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, জাতীয় অগ্রগতিতে নারীর ভূমিকা স্বীকার না করে জামায়াত-এ-ইসলামি অব্যাহতভাবে নারীদের অপমান করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার কর্মরত নারী, তাদের অপমান করা মানে রাজনৈতিক নৈতিকতার অভাব।
কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসির প্রশ্ন তোলেন, শফিকুরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি সত্য কিনা। তিনি দাবি করেন, যদি হ্যাক হয়ে থাকে তবে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা উচিত, নইলে তা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, শফিকুরের মন্তব্যের জন্য কঠোর শাস্তি প্রয়োজন এবং তিনি জনসাধারণিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারীর মর্যাদা রক্ষার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবাদে উত্থাপিত দাবিগুলি রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ছাত্রদল ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী ভবিষ্যতে জামায়াত-এ-ইসলামির নীতিমালা ও আচরণ নিয়ে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এই বিষয়টি ভোটারদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে।



