উচ্চ আদালত আজ সরকারী সংস্থাগুলোকে অনুরোধ জানিয়ে র্যাবের সেই কর্মীদের নাম ও বর্তমান অবস্থান জানাতে আদেশ জারি করেছে, যারা ২০১১ সালে মোঃ লিমন হোসেনকে গুলি করে আহত করেছিল। মামলাটি ১৫ বছর আগে ঘটলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রয়েছে।
আদালতের আদেশে র্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পরিচয় ও অবস্থান জানার পাশাপাশি, কেন লিমনকে আটক, গুলি করা এবং একাধিক মামলা দিয়ে তাকে দোষারোপ করা অবৈধ নয়, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্তকে ২.৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান না করার কারণও স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশনা উচ্চ আদালতের বিচারক আহমেদ সোয়েল ও বিচারক ফাতেমা আনওয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। উভয় বিচারকই লিমনের পক্ষ থেকে দায়ের করা রিটের আবেদন বিবেচনা করে এই আদেশ প্রদান করেন।
মোঃ লিমন হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ২০১১ সালে ঘটেছিল, যখন তিনি পরিবারের গরু নিয়ে মাঠে গিয়ে ছিলেন। সেই সময় র্যাবের একটি দল তাকে গুলি করে তার বাম পা আহত করে। গুলির পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে বিভিন্ন কৃত্রিম মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
র্যাব-৮ দলের নেতৃত্বে তখনকার ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর লুৎফর রহমান ছিলেন, যাকে র্যাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটি লিমনকে গুলি করার সময় তার পা লক্ষ্যবস্তু করে গুলি চালায়, ফলে তিনি শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
লিমন এই ঘটনার পরপরই আদালতে রিটের আবেদন দায়ের করেন, যাতে র্যাবের দায়িত্বশীলদের নাম ও অবস্থান প্রকাশের পাশাপাশি তার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়। রিটের আবেদনটি উচ্চ আদালতে গৃহীত হওয়ার পর আজকের আদেশ জারি হয়েছে।
আদালত র্যাবের কর্মীদের বিরুদ্ধে গুলি, আটক এবং অবৈধ মামলায় জড়িয়ে রাখার কাজকে অবৈধ ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদান করা যাবে না, এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দিয়েছে।
উচ্চ আদালত পূর্বে এই মামলায় তদন্তের জন্য বেশ কিছু নির্দেশ জারি করেছিল, যার মধ্যে র্যাবের কর্মীদের ওপর তদন্ত এবং লিমনের চিকিৎসা খরচ সরকারীভাবে বহন করার আদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেসব নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, যা আজকের আদেশে পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।
লিমনের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ১৫ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই আদেশের মাধ্যমে লিমনের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি এবং ক্ষতিপূরণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও মিডিয়ার ভূমিকা প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন, যে সাংবাদিকরা প্রথমবারে এই ঘটনা প্রকাশ করে র্যাবের গুলিবিদ্ধের তথ্য জনসাধারণের সামনে এনেছেন। মিডিয়ার এই প্রচেষ্টা ছাড়া সম্ভবত এই মামলাটি কখনো আলোতে আসত না।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে র্যাবের কর্মীদের নাম, পদবী এবং বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। তথ্য প্রদান না করলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অধিকন্তু, র্যাবের কর্মীদের বিরুদ্ধে গুলি, আটক এবং অবৈধ মামলায় জড়িয়ে রাখার কাজকে অবৈধ না ঘোষণা করা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া অগ্রসর হবে না। ভবিষ্যতে আদালত এই বিষয়গুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে যথাযথ রায় প্রদান করতে পারে।



