ঢাকা উচ্চ আদালত আজ একটি আদেশ জারি করে, যেখানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (DNCC) অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মোহাম্মদ আজাজের বিদেশে যাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) দাখিল করা পিটিশনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে আজাজকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জাজের কোর্টে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ আদেশ প্রদান করেন। পিটিশনটি ACC-র সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়, যিনি বর্তমান তদন্তের প্রধান দায়িত্বে আছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজাজকে DNCC-র বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। এই অভিযোগগুলোতে নগরীর সম্পদ ও সেবা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বহু বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষত, মিরপুর‑গাবতলি গবাদি পশু বাজারের লিজিং প্রক্রিয়া, ই‑রিকশা প্রকল্প এবং বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটনের নিয়ন্ত্রণে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোতে অনুমোদন প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনে অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে বলে ACC উল্লেখ করে।
অতিরিক্তভাবে, বানানী কিচেন মার্কেটের দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তলতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দ, নগরীর ভ্যান সেবা এবং ফুটপাথে দোকান স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতেও অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ নগরীর সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও জনসেবা প্রদানকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
দুর্নীতি দমন কমিশন জানায়, আজাজকে একাধিকবার শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তবে তিনি কোনোভাবে উপস্থিত হননি। নোটিশের প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় আদালতকে তার বিদেশে যাত্রা সীমাবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
সোর্সের তথ্য অনুযায়ী, আজাজের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলমান তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, তদন্তের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা রক্ষার জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন এই অভিযোগগুলো নিয়ে ২৭ নভেম্বর গত বছর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছিল। তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ আজাজকে interim সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি গত বছর এক বছরের মেয়াদে DNCC-র অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার পূর্বে আসিফ মাহমুদ শজিব ভূয়াইন স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে ছিলেন।
আদালত এখন এই নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে কিনা এবং ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত শাস্তি আরোপ হবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে DNCC-র প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।



