শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার দুপুর ১১:৩০ টার দিকে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রচার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ জুলাই ২০২৪‑এর ঘটনাকে স্মরণ করে উল্লেখ করেন যে, দেশের নতুন জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর রক্তের মাধ্যমে গঠিত। তিনি বলেন, যদিও হাতে পাওয়া কপি কালো কালি দিয়ে মুদ্রিত, তবে সনদের মূল অর্থ ও শক্তি শিহরণকর আত্মত্যাগের রক্তে গড়ে উঠেছে।
সভায় উপস্থিত শিক্ষাবিদ, ছাত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রীয়াজের বক্তব্য শোনার পর প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশ নেন। রীয়াজ স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকারের এজেন্ডায় জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্ত নয়; তবে এই নথি দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, গত তিনটি নির্বাচনকে ‘নির্বাচন’ বলা অবমাননাকর, কারণ সেগুলো বিদ্যমান সংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে রাতারাতি ও ডামি হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রীয়াজের মতে, জুলাই সনদে কোনো জায়গায় ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়া বা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার কোনো ধারা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ৩৯ পৃষ্ঠার এই নথিতে এমন কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। তার ব্যাখ্যা অনুসারে, সনদের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতি হিসেবে সমতা, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সংস্কৃতির স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
এই নীতিগুলোকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের মূল আদর্শের সঙ্গে তুলনা করেন। রীয়াজের দৃষ্টিতে, সনদে উল্লিখিত মূল্যবোধই স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল সত্তা, এবং তাই এই নথিকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বলা মিথ্যা ও অবমাননাকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সনদের প্রতিটি শব্দই দেশের আত্মত্যাগী বীরদের রক্তের ছাপ বহন করে, যা ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারণে ভিত্তি হবে।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষক ইতিমধ্যে সনদের বাস্তব প্রয়োগে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা দাবি করেন, রীয়াজের রক্তের রূপক ব্যবহার রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং নথির বাস্তবিক কার্যকারিতা নির্ধারণে আরও স্পষ্ট প্রক্রিয়া প্রয়োজন। তবে রীয়াজের বক্তব্যের ভিত্তিতে, সনদকে কেবল রূপক অর্থে না দেখে, তার নৈতিক ও আইনি দিক থেকে মূল্যায়ন করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, জুলাই সনদে উল্লেখিত নীতিগুলো যদি সরকারী নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে তা সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে। একই সঙ্গে, সনদের রক্তের রূপক ব্যবহার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে, যা সংসদীয় আলোচনার গতি ত্বরান্বিত করবে।
অধিকন্তু, রীয়াজের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের বিভিন্ন অংশে সনদের প্রতি জনমত গঠন শুরু হয়েছে। কিছু নাগরিক রক্তের রূপককে সম্মানসূচক হিসেবে গ্রহণ করছেন, আবার অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন। এই বিভাজনই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে সনদের বাস্তবিক প্রয়োগ ও তার প্রভাব নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, আলী রীয়াজের বক্তব্য জুলাই ২০২৪‑এর আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দেশের নতুন সনদের রক্তের ভিত্তি তুলে ধরেছে এবং তার নীতিগুলোকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সনদের বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা পরবর্তী সময়ে সংসদীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।



