25 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলারাফায়েলা পিমেন্তা ফোর্বসের ৫০ ওভার ৫০ তালিকায় ফুটবলের প্রথম নারী সুপার এজেন্ট...

রাফায়েলা পিমেন্তা ফোর্বসের ৫০ ওভার ৫০ তালিকায় ফুটবলের প্রথম নারী সুপার এজেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত

রাফায়েলা পিমেন্তা, ৫৩ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এজেন্ট, ২০২৬ সালের ফোর্বসের “৫০ ওভার ৫০” তালিকায় ফুটবলের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রথম নারী সুপার এজেন্টের খেতাব অর্জন করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

ফোর্বস প্রতি জানুয়ারি ৫০ জন নারীকে তাদের প্রভাব ও অবস্থানের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করে, যারা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। এই বছরের তালিকায় অস্কার জয়ী অভিনেত্রী পেনেলোপ ক্রুজ এবং প্রথম মহিলা ক্যান্টারবেরি আর্চবিশপ ডেম সারা মুলালি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নারী অন্তর্ভুক্ত।

পিমেন্তা, যদিও কখনো কোনো গোল করেননি বা কোনো দল পরিচালনা করেননি, তবু তার এজেন্সি কাজের মাধ্যমে ফুটবলে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছেন। তিনি ব্রাজিলের একটি ছোট এজেন্সি থেকে শুরু করে এখন বিশ্বব্যাপী ক্লাব ও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তার ক্লায়েন্ট তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটি’র স্ট্রাইকারেরারলিং হালান্ড, লিভারপুলের ম্যানেজার আর্নে স্লট এবং মাত্র ১৭ বছর বয়সী মেক্সিকান উন্মাদ গিলবের্তো মোরাও অন্তর্ভুক্ত। এই তিনজনের পাশাপাশি তিনি বহু তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের চুক্তি পরিচালনা করেন।

বিবিসি স্পোর্টের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে পিমেন্তা সময়মতো উপস্থিত হয়ে উষ্ণ স্বভাব প্রদর্শন করেন, তবে ক্যামেরা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়বস্তুতে সম্পূর্ণ গম্ভীর হয়ে ওঠেন। তিনি নারী খেলোয়াড় ও কর্মীদের প্রতি আচরণ, এজেন্সি কাজের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি ফুটবলে নারীদের অবস্থান উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। পিমেন্তা বলেন, “ক্লাবগুলো অতিরিক্ত ক্ষমতা অর্জন করেছে, ফলে খেলোয়াড়রা প্রায়ই পরিস্থিতির বন্দী হয়ে পড়ে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষা না করলে খেলোয়াড়দের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন হবে।

ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষের দিকে তিনি একটি সাধারণ দৃশ্য বর্ণনা করেন: “প্রতিটি উইন্ডোর শেষে কেউ না কেউ কাঁদতে থাকে, কারণ কোনো ক্লাব অতিরিক্ত এক মিলিয়ন পাউন্ড চায় এবং খেলোয়াড়ের ইচ্ছা পূরণ হয় না।” এই ধরনের ঘটনা তার মতে সিস্টেমের অস্বাভাবিকতা প্রকাশ করে।

অক্টোবর ২০২৪-এ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদালত (CJEU) ফিফা দ্বারা প্রয়োগিত কিছু ট্রান্সফার নিয়মকে ইউরোপীয় আইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। আদালতের রায়ের পর ফিফা একটি অস্থায়ী কাঠামো প্রবর্তন করে, যেখানে চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ গণনা এবং প্রমাণের দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে।

পিমেন্তা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক বলে স্বীকার করেন, তবে তিনি অতীতের মানবিক দিকের অভাবের ওপর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “পূর্বে ক্লাবের মালিক বা পরিচালক ও খেলোয়াড়ের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক থাকত; কেউ যদি বলত ‘দয়া করে, আমাকে যেতে দিন’, তবে তারা সহায়তা করত।” আজকের বাণিজ্যিক পরিবেশে এই ধরনের মানবিক সংযোগ কমে গেছে, তিনি বলেন।

ফিফা’র নতুন ফ্রেমওয়ার্ক এবং ইউরোপীয় আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পিমেন্তা ট্রান্সফার সিস্টেমের পুনর্গঠনকে জরুরি দাবি করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্লাবের ক্ষমতা সীমিত করে এবং খেলোয়াড়ের অধিকার রক্ষা করে ভবিষ্যতে আরও ন্যায়সঙ্গত বাজার গড়ে উঠবে।

রাফায়েলা পিমেন্তা, যিনি এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী নারী কণ্ঠ, তার কাজ ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে খেলোয়াড়, ক্লাব এবং ফিফা সকলের জন্য সমতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে অগ্রসর হচ্ছেন। তার নেতৃত্বে ফুটবলের ব্যবসায়িক দিকের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments