বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন রবিবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে নারীর মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নারীদের প্রতি অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যের ঘটনা সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করেছে, তাই দলটি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
মাহ্দী আমিনের মতে, বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামির আমীর ড. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড এক্স (Twitter) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের লক্ষ্য করে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হলে তা কোনো সভ্য সমাজে স্বীকৃত হতে পারে না। তিনি যোগ করেন, যদি এই মন্তব্য সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা সমাজকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং নারীর আধুনিকতার নামে ঘরে বের হওয়া নারীরা শোষণ ও নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হতে পারে।
প্রতিবাদী পোস্টের প্রকাশের প্রায় নয় ঘণ্টা পর হ্যাকের দাবি তোলা হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, হ্যাকের তথ্য জনসাধারণের কাছে তৎক্ষণাৎ জানানো উচিত ছিল, তবে এই ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। একই সময়ে অন্যান্য নির্বাচনী পোস্টও প্রকাশিত হলেও হ্যাক সংক্রান্ত কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।
হাতিরঝিল থানা থেকে প্রাপ্ত একটি সাধারণ ডায়েরি রেকর্ডে দেখা যায়, হ্যাকের বিষয়টি বিকেলেই জানা গিয়েছিল। তবে এই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করে কতদিন পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে, তা নিয়ে জনগণ স্পষ্ট উত্তর চায়। মাহ্দী আমিনের মতে, হ্যাকের পর দ্রুত অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের দাবি জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি সবসময় নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবে দলটির নিজস্ব নীতিমালায় নারীর প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে। মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, দলটি কোনো নির্বাচনী আসনে নারী প্রার্থী দায়ের করেনি এবং শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারীদের এনআইডি কার্ড ও মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, যা দ্বৈত মানদণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপি নেতাদের অতীতের কিছু মন্তব্যও নারীবিদ্বেষী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতারা নারীদের প্রতি অশালীন ও পশ্চাৎপদ মন্তব্য করে আসছেন, যা এই নতুন অভিযোগের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ নয়। মাহ্দী আমিনের মতে, এই ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। নারীর অধিকার সংরক্ষণে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া দলটি এখন তার নিজস্ব নীতি ও কার্যক্রমের সামঞ্জস্যতা প্রমাণের জন্য চাপের মুখে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে না পারা দলটি ভোটারদের কাছ থেকে সমালোচনা ও সমর্থন হারাতে পারে, বিশেষ করে শহুরে ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে।
অধিকন্তু, হ্যাকের অভিযোগ ও তার পরবর্তী সময়ে তথ্য প্রকাশের ধীরগতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচনী পর্যায়ে তথ্য নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে নির্বাচনী কমিশন ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিএনপি নারীর মর্যাদা রক্ষায় আপস না করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে, তবে দলের অভ্যন্তরীণ নীতি ও কার্যক্রমের মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্যের সমাধান না হলে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে। আগামী নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নই দলটির ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



