গোটা রাত ৯টায়, জলঢাকা উপজেলার নীলফামারী-৩ আসনের ট্রাফিক মোড়ে ব্যানার টাঙানোর প্রচেষ্টা চলাকালে, বিএনপি ও জামাতের সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি হয়ে তীব্র কথোপকথন ও উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় দলই নির্বাচনী ব্যানারকে গুরুত্বপূর্ণ প্রচার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সময়, বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলীর কর্মীরা ধানের শীষের চিত্রযুক্ত ব্যানার টাঙাতে গিয়ে, জামাত প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ সালাফীর সমর্থকদের বাধা পায়। জামাতের দল বলেছে, তাদের নিজস্ব ব্যানারকে ঢেকে রাখার আশঙ্কা থেকে তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যানারকে অগ্রাধিকার না দিয়ে নিজস্ব প্রচার সামগ্রীকে অগ্রসর করার দাবি তুলে ধরে।
ব্যানার টাঙানোর কাজ চলাকালীন, দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে শব্দবিনিময় বাড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে, কোনো শারীরিক হিংসা বা অস্ত্রের ব্যবহার না ঘটায়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে, উভয় দলের প্রতিনিধিদের শান্ত করার চেষ্টা করে এবং অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পরে জানিয়েছেন, তার কর্মীরা ধানের শীষের ব্যানার টাঙাতে গিয়েছিলেন এবং জামাতের সমর্থকদের বাধা পেয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে কোনো আহত বা মৃতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
অন্যদিকে, জামাত প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ সালাফীও একই সময়ে ব্যানার টাঙানোর ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তার দলের সদস্যরা তাদের ব্যানারকে ঢেকে রাখার সম্ভাবনা থেকে বিএনপি দলের কর্মীদের বাধা দিয়েছেন। উভয় প্রার্থীই ব্যানার টাঙানোর সময়ের ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
জলঢাকা থানার ওয়্যার্ড অফিসার নাজমুল আলমের মতে, রাত ৯টায় ব্যানার টাঙানোর বিষয়টি নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথোপকথন হয়, তবে কোনো শারীরিক সংঘর্ষ বা হাতাহাতির ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয় এবং এখনো কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের রেকর্ড নেই।
এই ধরনের ব্যানার বিরোধ স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশে প্রায়ই দেখা যায়, বিশেষ করে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দলগুলো ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। নীলফামারী-৩ আসনে উভয় দলের প্রার্থীই নিজেদের প্রচার কৌশলকে শক্তিশালী করতে ব্যানারকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন, ফলে এই ধরনের সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়ে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নিলফামারীর মতো গ্রামীণ এলাকায় ব্যানার টাঙানো কেবল ভিজ্যুয়াল প্রচার নয়, বরং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের একটি উপায়। তাই ব্যানার টাঙানোর সময় যদি দুই দলের সমর্থকরা একে অপরের কাজ বাধা দেয়, তা স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ভবিষ্যতে, নীলফামারী-৩ আসনের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা তীব্রভাবে চলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উভয় দলই ব্যানার, পোস্টার এবং অন্যান্য প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোরও সতর্কতা বজায় রাখতে হবে, যাতে কোনো ছোটখাটো বিরোধ বড় সংঘাতে রূপ না নেয়।
সামগ্রিকভাবে, রাতের ঘটনাটি কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই শেষ হয়েছে, তবে এটি নির্বাচনী প্রচারকালে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।



