ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্ধারিত ইউক্রেন, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠকটি এখনও নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করে, বৈঠকের সুনির্দিষ্ট দিন ও সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলছেন, ইউক্রেন যেকোনো শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিকল্পিত শীর্ষ বৈঠকটি এখনো আনুষ্ঠানিক সূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে নির্ধারিত সময়সূচি ও আলোচনার কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্টতা চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো শর্ত আরোপ না করে সব ধরণের আলোচনার জন্য উন্মুক্ততা রয়েছে। এই প্রকাশনা কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোকে আরও সক্রিয় করার ইঙ্গিত দেয়।
ইউক্রেনের সরকার ধারাবাহিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় বজায় রাখছে এবং শীর্ষ বৈঠকের নির্ধারিত সময়ের জন্য প্রস্তুত। জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, কোনো দিকনির্দেশনা না পেলে ইউক্রেনের দল সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অব্যাহত সংলাপকে শান্তি প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইউক্রেনের স্থিতিশীলতা ও ইচ্ছাশক্তি প্রকাশ করে।
সেই সপ্তাহের শনিবার, ফ্লোরিডায় রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে একটি দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা যুদ্ধের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য সমঝোতার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের শেষে মার্কিন প্রতিনিধিরা এটিকে উৎপাদনশীল ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেন। এই মূল্যায়ন ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য ইতিবাচক সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রায় চার বছর ধরে চলমান সংঘাতের সমাধানে কূটনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতি সীমাবদ্ধ করার দিকে কেন্দ্রীভূত। এই প্রেক্ষাপটে ফ্লোরিডা বৈঠকটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
শান্তি আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে ভূখণ্ডের দখল বিষয়টি উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধের কারণ। রাশিয়া, রাশিয়া সরকার, ডোনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, এমনকি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকা অঞ্চলগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। এই দাবি ইউক্রেনের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতার সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ। ফলে, এই বিষয়টি আলোচনার সবচেয়ে জটিল এবং সংবেদনশীল অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।
মস্কোর পক্ষ থেকে ডোনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। রাশিয়া দাবি করে যে, যুদ্ধের পরিণতিতে অর্জিত সব অঞ্চল তার স্বার্থের অন্তর্ভুক্ত। তবে ইউক্রেনের সরকার এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সীমানা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। এই পারস্পরিক বিরোধ শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতিকে কঠিন করে তুলছে।
একজন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকের মতে, ভূখণ্ড সংক্রান্ত মতবিরোধের সমাধান ছাড়া কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের স্বার্থের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ছাড়া স্থায়ী সমঝোতা অর্জন করা কঠিন। বর্তমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মূলত এই বিষয়টি সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করেছে। তাই, পরবর্তী সপ্তাহে নির্ধারিত অতিরিক্ত শীর্ষ বৈঠকগুলোতে এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হবে।
আসন্ন মাইলস্টোন হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউক্রেনের দল শীঘ্রই নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুনরায় নির্ধারিত শীর্ষ বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত হলে, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় অংশ নেবে। এই বৈঠকটি যুদ্ধের সমাপ্তি এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই বৈঠকের ফলাফলকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সূচক হিসেবে দেখছেন।
সারসংক্ষেপে, ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের সমাধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা এখনও সক্রিয়, তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত দাবি ও প্রত্যাখ্যানের কারণে আলোচনার অগ্রগতি ধীরগতিতে চলছে। উভয় পক্ষের প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির সফলতা নির্ধারণ করবে।



