মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলা সরকারকে লক্ষ্য করে কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক লরা এফ. ডোগু কারাকাসে পৌঁছেছেন। তিনি সাত বছরের পর আবারো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে দেশের রাজধানীতে পাঠাচ্ছেন।
ডোগু সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তিনি ভেনেজুয়েলা পৌঁছেছেন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। এই মিশনটি প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত তিন ধাপের কৌশলের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্তোও একই প্ল্যাটফর্মে মন্তব্য করে বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে কাজের রূপরেখা তৈরি করা এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
ডোগু বর্তমানে কলম্বিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কারাকাসে উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিশ্লেষকরা মূল্যায়ন করছেন।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে কূটনীতিক প্রত্যাহার করে এবং কারাকাসে দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। এরপর থেকে দীর্ঘ বিরতির পর, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রতিনিধিদল দেশটি পরিদর্শন করে।
মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে শীঘ্রই কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। তিনি দূতাবাস পুনরায় খোলার জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপটি ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষের বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার ডোগুর সফরকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পারস্পরিক স্বার্থের আলোচনার সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে এই সফর ভবিষ্যতে কূটনৈতিক মিশন পুনরায় চালু করার ভিত্তি স্থাপন করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ডোগুর উপস্থিতি কূটনৈতিক যোগাযোগের পুনরায় স্থাপনের সংকেত এবং ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পুনরায় গঠনকে ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি ও আন্তর্জাতিক চাপ এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
অতএব, পরবর্তী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস পুনরায় চালু করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই সময়সূচি অনুসারে, কূটনৈতিক কর্মী ও কনস্যুলার সেবা পুনরায় শুরু হবে এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
দূতাবাসের পুনরায় খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সরকার ও মার্কিন সরকার উভয়ই বাণিজ্যিক বিনিয়োগ, মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সূচনা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পূর্বে প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিন ধাপের কৌশলে প্রথম ধাপে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ, দ্বিতীয় ধাপে বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, এবং তৃতীয় ধাপে দূতাবাসের পূর্ণাঙ্গ পুনরায় চালু করা অন্তর্ভুক্ত। ডোগুর মিশন এই ধারার প্রথম ধাপের বাস্তবায়নকে লক্ষ্য করে।
ডোগু উল্লেখ করেছেন যে তিনি ভেনেজুয়েলা সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সংগঠন, মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। এই সংলাপের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সমন্বয় সাধন করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, লরা এফ. ডোগুর কারাকাসে আগমন ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগকে শক্তিশালী করার সম্ভনা রাখে।



